জাহিদুল ইসলাম : সিলেট-তামাবিল-জাফলং মহাসড়কের জৈন্তাপুর অংশে সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দুই বাজার—চিকনাগুল ও দরবস্তে পৃথকভাবে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দুই বাজারের মহাসড়কের পাশে সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা ছোট-বড় অন্তত ৬০টি দোকানঘর ও বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট-তামাবিল-জাফলং মহাসড়কের জৈন্তাপুর অংশে বিভিন্ন বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সড়কের দুই পাশে সরকারি জায়গা দখল করে দোকানপাটসহ নানা ধরনের স্থাপনা গড়ে ওঠে। এসব স্থাপনার কারণে মহাসড়কের প্রশস্ততা অনেক ক্ষেত্রে কমে যায়। ফলে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি বাজার এলাকায় নিয়মিত যানজট ও জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে পথচারীদের চলাচলেও ভোগান্তি বাড়ছিল।
এ অবস্থায় মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে সড়কটি যানজটমুক্ত ও চলাচলের উপযোগী রাখতে উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগ যৌথভাবে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে।
বৃহস্পতিবার(১ অক্টোবর ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চিকনাগুল বাজারে অভিযান শুরু হয়। চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন দোকানঘর ও স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দুপুর ২টার দিকে দরবস্ত বাজারে দ্বিতীয় দফায় অভিযান শুরু হয়। সেখানে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উচ্ছেদ কার্যক্রম চলে। দুই বাজার মিলিয়ে অন্তত ৬০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায়। তিনি সরেজমিনে থেকে উচ্ছেদ কার্যক্রম তদারকি করেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও সড়কের জায়গা পরিদর্শন করেন এবং মহাসড়কের জায়গা দখল করে নতুন করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনিরুল ইসলাম, জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার (তদন্ত) আল-আমিন মীর, চিকনাগুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরী, দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, চারিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌধুরী তোফায়েল, চিকনাগুল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এ বি এম জাকারিয়াসহ সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয়রা জানান, চিকনাগুল ও দরবস্ত বাজার জৈন্তাপুরের অন্যতম ব্যস্ত বাজার। সিলেট-তামাবিল-জাফলং মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল করে। বাজার এলাকায় সড়কের দুই পাশে দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় অনেক সময় যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে না। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে যানজটের সৃষ্টি হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহন আটকে থাকে।
তাদের মতে, সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে সড়কের দুই পাশ উন্মুক্ত রাখা গেলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলেও সুবিধা হবে। তবে উচ্ছেদ করা জায়গায় যাতে পুনরায় স্থাপনা গড়ে না ওঠে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলেও মনে করেন স্থানীয়রা।
জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শুধু চিকনাগুল ও দরবস্ত বাজারেই অভিযান সীমাবদ্ধ থাকবে না। সিলেট-তামাবিল-জাফলং মহাসড়কের জৈন্তাপুর অংশের অন্যান্য হাটবাজারে সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলোও পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায় বলেন, “সিলেট-তামাবিল-জাফলং সড়কের জৈন্তাপুর অংশকে যানজটমুক্ত রাখতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।”
উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের ফলে মহাসড়কের দুই পাশের দখলমুক্ত জায়গা দিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজার এলাকায় দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে এ ধরনের অভিযান কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর জৈন্তাপুর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে আলোচনা হয়। এর পরদিনই মহাসড়কের পাশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলো।