Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি লেখালেখি রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
পর্ব দুই: হেরি ইংলিশের জৈন্তিয়া অভিযান

হেরি সাহেবের আগমন থেকে রাজা বন্দী—যেভাবে হারাল জৈন্তিয়ার স্বাধীনতা

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ • ০৫:৩৮ অপরাহ্ন

জৈন্তিয়ার পতনের ইতিহাস


লেখক: আসিফ আযহার


বন্ধুর পরিচয়ে জৈন্তিয়ায় ব্রিটিশ অভিযান, বন্দী হলেন শেষ রাজা রাজেন্দ্র সিংহ


১৮৩৫ সালের মার্চ। কয়েক শতাব্দীর স্বাধীন জৈন্তিয়া রাজ্যের অস্তিত্ব তখন শেষ অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে গেছে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, চুক্তি, বিরোধ এবং মানববলির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার পর অবশেষে জৈন্তাপুরের রাজধানীর দিকে অগ্রসর হয় ব্রিটিশ বাহিনী।


ঐতিহাসিক সূত্রে জৈন্তিয়া দখলের আনুষ্ঠানিক তারিখ ১৫ মার্চ ১৮৩৫ হিসেবে বেশি পাওয়া যায়। সেদিন ক্যাপ্টেন ফ্রেডেরিক জর্জ লিস্টারের নেতৃত্বে সিলেট লাইট ইনফ্যান্ট্রির দুই কোম্পানি সৈন্য জৈন্তাপুরে গিয়ে রাজ্যের সমতলাঞ্চল ব্রিটিশ অধিকারে নেয়। কিছু স্থানীয় ও পরবর্তী বর্ণনায় ১৬ মার্চ তারিখটিও পাওয়া যায়।


এই অভিযানের সঙ্গে হেরি ইংলিশের নামও জড়িয়ে আছে। গবেষণামূলক বর্ণনায় লিস্টারের সঙ্গে এইচ. ইংলিশ/হেরি ইংলিশ-এর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একটি ঐতিহাসিক গবেষণায় তাঁকে লিস্টারের সঙ্গে জৈন্তাপুর অভিযানে থাকা ব্যক্তি এবং রাজপরিবারের সঙ্গে পূর্বপরিচিত ব্রিটিশ কর্মকর্তা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।


বন্ধুর পরিচয়ে রাজধানীতে প্রবেশের কাহিনি


জৈন্তিয়ার রাজা রাজেন্দ্র সিংহ ছিলেন তরুণ, কোমলমতি ও শান্তিপ্রিয় বলে স্থানীয় ঐতিহ্যে তাঁর যে চিত্র পাওয়া যায়, তার সঙ্গে ব্রিটিশ সামরিক অভিযানের আকস্মিকতা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত।


প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, হেরি ইংলিশের সঙ্গে রাজার পূর্বপরিচয় ছিল। জৈন্তিয়ায় তাঁর যাতায়াতও ছিল। ফলে ব্রিটিশ সৈন্য নিয়ে তাঁর আগমনকে রাজা প্রথমে সামরিক আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করেননি—এমন একটি কাহিনি জৈন্তিয়ার লোকস্মৃতি ও পরবর্তী ঐতিহাসিক লেখায় পাওয়া যায়।


কিন্তু রাজধানীতে ব্রিটিশ সৈন্যরা অবস্থান নেওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। সৈন্যরা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দখল করতে শুরু করে। রাজাকে প্রতিরোধের পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি যুদ্ধের নির্দেশ দেননি—এমন বর্ণনাও জৈন্তিয়ার লোককথা ও পরবর্তী লেখায় রয়েছে। তাঁর আশঙ্কা ছিল, রাজধানীর ভেতরে যুদ্ধ শুরু হলে সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতে পারে।


এই অংশের অনেক বিবরণ সমসাময়িক সরকারি নথির পরিবর্তে পরবর্তী ঐতিহাসিক বর্ণনা ও লোকস্মৃতির ওপর নির্ভরশীল। তাই ঘটনাটিকে সরাসরি প্রত্যক্ষ ইতিহাস হিসেবে নয়, জৈন্তিয়ার লোকস্মৃতিতে সংরক্ষিত একটি ঐতিহাসিক বয়ান হিসেবেও দেখা প্রয়োজন।


বিনা যুদ্ধে জৈন্তাপুরের পতন


ব্রিটিশ বাহিনী রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর রাজা রাজেন্দ্র সিংহের রাজনৈতিক ক্ষমতার অবসান ঘটে।


ঐতিহাসিক নথিতে নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়, ১৫ মার্চ ১৮৩৫ তারিখে ক্যাপ্টেন লিস্টার জৈন্তাপুরে গিয়ে রাজ্যের সমতলাঞ্চল ব্রিটিশ সরকারের অধীনে নেওয়ার ঘোষণা দেন। ব্রিটিশ ঘোষণায় জনগণকে নিজেদের ব্যক্তি ও সম্পত্তির নিরাপত্তা সম্পর্কে আশ্বস্ত করা হয়েছিল।


একই সময় রাজেন্দ্র সিংহকে তাঁর পাহাড়ি ভূখণ্ডে শাসন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। ব্রিটিশ সরকারের নির্দেশনায় তাঁর সমতলের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কথা বলা হলেও পাহাড়ে তাঁর শাসন অব্যাহত রাখার সুযোগ রাখা হয়েছিল।


কিন্তু রাজেন্দ্র সিংহ সেই সীমিত শাসন মেনে নেননি। একটি ঐতিহাসিক গবেষণায় বলা হয়েছে, তিনি পাহাড়ি অংশের ওপরও আর শাসন করতে চাননি এবং ব্রিটিশ ভূখণ্ডেই অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেন।


রাজাকে সিলেটে নিয়ে যাওয়া


রাজ্য হারানোর পর রাজেন্দ্র সিংহকে সিলেটে নিয়ে আসা হয়। তাঁর সমতলাঞ্চলের সম্পত্তি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।


তবে পরবর্তী সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তির একটি অংশ তাঁকে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ঐতিহাসিক সূত্রে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তির মূল্য দেড় লাখ টাকার বেশি হিসেবে উল্লেখ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে তাঁকে মাসিক ৫০০ টাকা ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়।


এই তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জৈন্তিয়া দখলের পর ব্রিটিশ প্রশাসন রাজেন্দ্র সিংহের সব ব্যক্তিগত সম্পত্তি স্থায়ীভাবে নিজেদের কাছে রেখে দেয়নি; বরং তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তির একটি অংশ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল এবং নিয়মিত ভাতা নির্ধারণ করেছিল।


রাজ্যের বদলে পাহাড়ি সিংহাসনের প্রস্তাব


ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ রাজেন্দ্র সিংহকে জৈন্তিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলে সীমিত কর্তৃত্ব নিয়ে রাজা হিসেবে থাকার সুযোগ দিয়েছিল। লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের নির্দেশনায় তাঁকে সমতলের সম্পত্তি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়ে পাহাড়ি এলাকায় আগের মতো শাসন চালানোর সুযোগ দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।


কিন্তু রাজেন্দ্র সিংহ এই ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট হননি। ফলে জৈন্তিয়া রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক কাঠামোও কার্যত ভেঙে পড়ে।


পরবর্তী সময়ে জৈন্তিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিরোধ দেখা দেয়। ব্রিটিশরা সেখানে সরাসরি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে ডলোই ও সারদারদের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করে।


জৈন্তিয়ার মানুষের লোকগানে সেই দিনের কান্না


জৈন্তিয়ার রাজপরিবার ও রাজ্য হারানোর ঘটনা স্থানীয় মানুষের লোকস্মৃতিতে গভীরভাবে জায়গা করে নেয়। রাজেন্দ্র সিংহকে বন্দী করে নিয়ে যাওয়ার বেদনা নিয়ে জৈন্তিয়া অঞ্চলে বিভিন্ন লোকগান ও গাথা প্রচলিত হয়েছে বলে পরবর্তী গবেষণাতেও উল্লেখ পাওয়া যায়। ১৮৩৫ সালের ঘটনার পর মানুষের হতাশা ও রাজার প্রতি আবেগ লোকগানে প্রতিফলিত হয়েছিল।


প্রচলিত একটি লোকগাথায় বলা হয়—


«“হেরি সাহেব বাহাদুর……

বিনা দোষে মাইলরে সোনার জৈন্তাপুর।

ছাতক তনে আইল হেরি যাইত বদরপুর

ছিলট গিয়া জিকার করে জৈন্তা কতদূর?

বিনা দোষে মাইলরে সোনার জৈন্তাপুর।”»


আরেকটি গানে রাজেন্দ্র সিংহকে বন্দী করে নিয়ে যাওয়ার বেদনা ফুটে ওঠে—


«“মুই কই যাউম রে কোথায় গেলে তরী,

হাকিম হৈলা হুকুমদার পেদা প্রাণের বৈরী...”»


এই লোকগানগুলোকে সমসাময়িক সরকারি নথির বিকল্প হিসেবে নয়, বরং জৈন্তিয়াবাসীর ঐতিহাসিক স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক প্রতিক্রিয়ার দলিল হিসেবে দেখা যায়।


রাজেন্দ্র সিংহের শেষ জীবন


রাজ্য হারানোর পর রাজেন্দ্র সিংহ সিলেটে বসবাস করতে বাধ্য হন। তাঁর জন্য মাসিক ৫০০ টাকা ভাতা নির্ধারিত হয়েছিল। ঐতিহাসিক সূত্রে এই ভাতার উল্লেখ পাওয়া যায়।


রাজা হারানো রাজ্য ফিরে পাওয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন বলেও বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়নি।


পরবর্তী জীবনে তিনি সিলেটে অবস্থান করেন এবং ১৮৬১ সালে মৃত্যুবরণ করেন—এ তথ্যও জৈন্তিয়ার ইতিহাসের বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়।


পাহাড়ে প্রতিরোধ


সমতলাঞ্চল ব্রিটিশদের হাতে চলে যাওয়ার পর জৈন্তিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলেও প্রতিরোধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর একাংশ ব্রিটিশ কর্তৃত্ব মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।


ঐতিহাসিক গবেষণায় দেখা যায়, ব্রিটিশরা সেই প্রতিরোধ দমন করে পরে পাহাড়ি অঞ্চলে তুলনামূলক পরোক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করে। ডলোই ও সারদারদের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন পরিচালিত হয় এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ওপর সমতলাঞ্চলের মতো সরাসরি রাজস্বব্যবস্থা চাপানো হয়নি।


এর ফলে জৈন্তিয়া রাজ্যের পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়।


হেরি ইংলিশের ভূমিকা কতটা নিশ্চিত?


জৈন্তিয়ার লোকস্মৃতিতে ‘হেরি সাহেব’ নামটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় বর্ণনায় তাঁকে রাজার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং তাঁর পূর্বপরিচয়কে ব্রিটিশ অভিযানের কৌশলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।


তবে লিখিত ঐতিহাসিক সূত্রে নিশ্চিতভাবে যা পাওয়া যায় তা হলো—১৫ মার্চ ১৮৩৫ সালে ক্যাপ্টেন লিস্টারের নেতৃত্বে সিলেট লাইট ইনফ্যান্ট্রির দুই কোম্পানি জৈন্তাপুর দখল করে। হেরি ইংলিশ/এইচ. ইংলিশ লিস্টারের সঙ্গে অভিযানে ছিলেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়।


অতএব, ‘হেরি ইংলিশ একাই অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন’—এ কথা নিশ্চিত ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে বলার চেয়ে তাঁকে লিস্টারের নেতৃত্বাধীন অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ও রাজপরিবারের সঙ্গে পূর্বপরিচিত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা অধিক নিরাপদ।


দখলের পেছনে শুধু মানববলি?


জৈন্তিয়া দখলের কারণ নিয়েও ইতিহাসে একাধিক ব্যাখ্যা রয়েছে।


ব্রিটিশ সরকারি ব্যাখ্যায় জৈন্তিয়া রাজ্যের সঙ্গে বিরোধের কেন্দ্রে ছিল ব্রিটিশ প্রজাদের অপহরণ ও মানববলির অভিযোগ এবং অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়ার প্রশ্ন। অন্যদিকে পরবর্তী গবেষণায় রাজ্যের অর্থনৈতিক সম্পদ, রাজস্ব, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটও সামনে এসেছে।


ব্রিটিশ কর্মকর্তারা জৈন্তিয়া রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থার একটি মূল্যায়নও করেছিলেন। একটি ঐতিহাসিক গবেষণায় রাজ্যের বার্ষিক রাজস্ব প্রায় ৩০ হাজার টাকা এবং রাজকোষে প্রায় ২০ লাখ টাকা থাকার হিসাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই অর্থনৈতিক মূল্যায়নের পর রাজেন্দ্র সিংহের ওপর চাপ বাড়ানো এবং তাঁর ক্ষমতা খর্ব করার সুপারিশ করা হয়।


তাই জৈন্তিয়ার পতনকে শুধু একটি ঘটনার ফল হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা কঠিন। মানববলির অভিযোগ ছিল ব্রিটিশদের ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ কারণ; এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থও বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বিবেচনার দাবি রাখে।


একটি স্বাধীন রাজ্যের অবসান


১৮৩৫ সালের মার্চে জৈন্তাপুরের পতনের মধ্য দিয়ে কয়েক শতাব্দী ধরে টিকে থাকা জৈন্তিয়া রাজ্যের স্বাধীন রাজনৈতিক অস্তিত্বের অবসান ঘটে। সমতলাঞ্চল সরাসরি ব্রিটিশ প্রশাসনের অধীনে যায়, আর পাহাড়ি অঞ্চলও পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণাধীন প্রশাসনিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হয়।


রাজা রাজেন্দ্র সিংহের ব্যক্তিগত জীবনের পরিণতি ছিল আরও করুণ—সিংহাসন হারিয়ে তাঁকে সিলেটে জীবন কাটাতে হয়। তাঁর মাসিক ভাতা, সম্পত্তি এবং রাজ্য পুনরুদ্ধারের আবেদন নিয়ে ইতিহাসে নানা বিবরণ রয়েছে। কিন্তু হারানো জৈন্তিয়া আর তাঁর হাতে ফিরে আসেনি।


১৮৩৫ সালের সেই মার্চ তাই শুধু একটি রাজ্যের রাজনৈতিক পতনের তারিখ নয়; জৈন্তাপুরের দীর্ঘ রাজকীয় ঐতিহ্যের অবসানেরও একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ।


জৈন্তিয়ার মানুষ পরবর্তীকালে লোকগান, লোককথা ও স্মৃতির মধ্য দিয়ে রাজা রাজেন্দ্র সিংহের সেই পরাজয় ও বন্দিত্বকে বয়ে নিয়ে গেছে। পাথরের মেনহির, ডলমেন, প্রাচীন রাজস্থাপনা আর লোকগাথায় আজও যেন সেই হারানো রাজ্যের স্মৃতি ছড়িয়ে আছে।


জৈন্তিয়ার পতন তাই শুধু একটি সামরিক অভিযানের গল্প নয়—এটি চুক্তি, ঔপনিবেশিক প্রশাসন, অর্থনৈতিক স্বার্থ, রাজকীয় দুর্বলতা, স্থানীয় প্রতিরোধ এবং এক স্বাধীন রাজ্যের বিলুপ্তির বহুস্তরীয় ইতিহাস।


(বাকি অংশ পড়ুন পরবর্তী পর্বে)


চিত্র: জৈন্তিয়ার মূল রাজধানী জয়ন্তীপুর ও উপরাজধানী নারতিয়াংয়ে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন পাথরের স্থাপনা—ডলমেন ও মেনহির।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com