তিন দশকের কর্মজীবন শেষে বিদায় নিলেন বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম
বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি: তিন দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শেষে অবসরোত্তর ছুটিতে গেলেন সিলেটের শিক্ষাবিদ ও বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. তারিকুল ইসলাম। দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কলেজ মিলনায়তনে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়ে বিদায় সংবর্ধনা গ্রহণ করেন তিনি।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা প্রফেসর মো. তারিকুল ইসলামকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা প্রদান করেন।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সাব্বীর আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি এমসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ তোফায়েল আহম্মদ, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মনসুর আলমগীর, মদনমোহন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর তাহমিনা আক্তার, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জ্যোতির্ময় দাস, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. দিদার চৌধুরী, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা।
সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি ব্রত। আমি আমার কর্মজীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ বজায় রেখে এই মহান পেশার মর্যাদা রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।”
তিনি দীর্ঘ কর্মজীবনে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ও ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রফেসর মো. তারিকুল ইসলামের দীর্ঘ কর্মজীবনের সততা, নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের কথা স্মরণ করে তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তাঁরা তাঁর অবসরোত্তর জীবন সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধ হোক—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রভাষক মিহির দেবনাথের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও সহযোগী অধ্যাপক মো. আব্দুর রহিম, প্রভাষক অনুপম দত্ত ও রাসেল হাবিব।
এর আগে কলেজ প্রাঙ্গণে সংবর্ধিত অতিথি প্রফেসর মো. তারিকুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের বিএনসিসি দল। পরে রোভার স্কাউটস দলের সদস্যরাও তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করেন।
দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব শেষে তাঁর অবসরকে ঘিরে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কলেজ-সংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্যেও ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁর বিদায় সংবর্ধনা আয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।