Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
channeljaintanews24.com
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৪:৫১ অপরাহ্ন
channeljaintanews24@gmail.com

গ্রাম আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কে জনগণকে জানাতে হবে: জেলা প্রশাসক

✍ চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
🕒 মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৪:৫১ অপরাহ্ন

সিলেট): গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর ও সক্রিয় করা গেলে ছোটখাটো বিরোধ ও মামলা স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের আদালতগুলোতে মামলাজট কমাতেও গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন।


শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ‘গ্রাম আদালত কার্যক্রম’ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, সিলেটের উপপরিচালক (উপসচিব) মাহমুদা সুলতানা।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আইনে নির্ধারিত এখতিয়ারের মধ্যে থেকে নির্দিষ্ট কিছু দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ স্থানীয় পর্যায়েই নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। চুরি, মারামারি, প্রতারণা, ভয়ভীতি বা হুমকি প্রদর্শন এবং নারীর শালীনতা অমর্যাদা করার মতো কিছু অপরাধের পাশাপাশি পাওনা টাকা আদায়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ, ক্ষতিপূরণ ও বকেয়া ভরণপোষণ আদায়ের মতো কিছু দেওয়ানি বিরোধও আইন অনুযায়ী গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তি করা যায়।


তিনি বলেন, গ্রাম আদালতের এখতিয়ার ও কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ধারণা নেই। ফলে ছোটখাটো বিরোধের সমাধানের জন্যও অনেককে দূরের আদালতে যেতে হয়। এতে তাদের সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় হয়। গ্রাম আদালত সম্পর্কে সঠিক তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া গেলে স্থানীয় পর্যায়েই অনেক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।


জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বর্তমানে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নির্দিষ্ট আর্থিক দাবি বা ক্ষতিপূরণ-সংক্রান্ত বিষয়ে আদেশ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আদালতের কার্যক্রম, সাক্ষ্য, সিদ্ধান্ত ও রায়সহ সংশ্লিষ্ট তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হলে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে। প্রয়োজনের সময় মামলার নথি বা রায়ের অনুলিপি সরবরাহ করাও এতে সহজ হবে।


গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেশের বিভিন্ন আদালতে ছোটখাটো মামলা ও বিরোধের যে চাপ রয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে গ্রাম আদালত কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে তার একটি অংশ সেখানেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার ওপর চাপও কমতে পারে।


তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের গ্রাম আদালত সম্পর্কে আরও বেশি জানার এবং সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিজেদের জ্ঞান ও ধারণা সমৃদ্ধ করতে হবে, যাতে কেউ পরামর্শ চাইলে তাকে গ্রাম আদালতের এখতিয়ার ও কার্যক্রম সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়া যায়।


সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, সিলেটের উপপরিচালক মাহমুদা সুলতানা গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচার-প্রচারণা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।


সভায় গ্রাম আদালতের এখতিয়ার, কার্যক্রম, মামলা নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রাম আদালত-সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।


উল্লেখ্য, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬-এর আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৪ সালের সংশোধনের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের সীমা তিন লাখ টাকা করা হয়েছে।

ছবি
channeljaintanews24.com
logo
ভিজিট করুন
২৯.০৯.২০২৬
© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
channeljaintanews24.com