Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সুনামগঞ্জ রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

শান্তিগঞ্জে সরকারি এজমালি ভূমিতে রাইস মিল, পরিবেশ দূষণের অভিযোগ

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ • ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের বসিয়া খাউরী গ্রামে সরকারি এজমালি ভূমিতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই ডিজেলচালিত রাইস মিল স্থাপন ও পরিচালনা, পরিবেশ দূষণ এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।


এ বিষয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন বসিয়া খাউরী গ্রামের দিলাল মিয়া, আলাল, দুলালসহ একাধিক ব্যক্তি। এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও একই বিষয়ে অভিযোগ করা হয় বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।


লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বসতবাড়ির নিকটবর্তী সরকারি এজমালি ভূমিতে বসিয়া খাউরী গ্রামের আসফাক আহমদ সুজন একটি ডিজেলচালিত রাইস মিল স্থাপন করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, মিলটি যে ভূমিতে স্থাপন করা হয়েছে সেটি সরকারি এজমালি ভূমি।


অভিযোগে আরও বলা হয়, রাইস মিল চালুর পর থেকে ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের বিকট শব্দ, ধোঁয়া, ধুলাবালি, ধান ও চালের গুঁড়া এবং তুষ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।


স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত শব্দের কারণে শিশুদের পড়াশোনা, বয়স্কদের বিশ্রাম ও ঘুম এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনে বিঘ্ন ঘটছে। একই সঙ্গে ডিজেল ইঞ্জিনের ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে বায়ুদূষণেরও সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তারা।


অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, রাইস মিল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স ও অন্যান্য সরকারি অনুমোদন রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মিলটির শব্দদূষণের মাত্রা এবং ডিজেল ইঞ্জিন থেকে নির্গত ধোঁয়াসহ বায়ুদূষণের মাত্রা পরীক্ষা করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।


অভিযোগপত্রে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অতিরিক্ত শব্দ, ধোঁয়া ও ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।


অভিযোগের বিষয়ে আসফাক আহমেদ সুজনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ব্যবসায়িক অংশীদার শাহাব উদ্দিন বলেন, “মিলটি বৈধ জায়গায় আমরা নতুন চালু করেছি। পরিবেশের ছাড়পত্রের বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে আমার ব্যবসায়িক পার্টনারের কাছে থাকতে পারে।”


এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয়ের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com