জালালাবাদ গ্যাসে ৮০ লাখ টাকা রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের অভিযান
সিলেট
সিলেটে জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের প্রায় ৮০ লাখ টাকা রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ ও অভিযোগ যাচাই করতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিলেটের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম জালালাবাদ গ্যাসের প্রধান কার্যালয়ে এ অভিযান পরিচালনা করে।
দুদক সিলেট কার্যালয়ের উপপরিচালক সুবেল আহমদ বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে আমরা প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি।’ অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব নথি পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদক সূত্র জানায়, জালালাবাদ গ্যাসের প্রায় ৮০ লাখ টাকা রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানে রাজস্ব আত্মসাতের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাদের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি আত্মসাতের ঘটনা আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগও পায় দুদক।
অভিযোগ যাচাই করতে অভিযানকালে দুদকের কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে বিভিন্ন নথিপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত নথিপত্রের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করেন। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা শেষে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।
দুদকের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জালালাবাদ গ্যাসের হবিগঞ্জ জোনের আঞ্চলিক পরিচালক মো. ছয়ফুল আলম এবং ছাতক জোনের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আশফাকুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ, লেজারে ভুয়া পোস্টিং, বিকাশের বিল জাল করে রাজস্ব সফটওয়্যারে পোস্টিং এবং নিজস্ব আইডি ব্যবহার করে ভুয়া পোস্টিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে দুদক কর্মকর্তারা জানান, সংগৃহীত নথি ও রেকর্ডপত্র বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। পর্যালোচনার পর অভিযোগের বিষয়ে কমিশন বরাবর প্রতিবেদন দাখিল এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।