দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে গেলে প্রতারণার ঝুঁকি কমে
সিলেট :
সঠিক নিয়ম মেনে ভাষা ও কাজের ওপর দক্ষতা অর্জন করে বিদেশে গেলে প্রতারণার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। পাশাপাশি বিদেশফেরত কর্মীদের মানসিক অবস্থার উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং সেবা নিশ্চিত করা জরুরি বলে জানিয়েছেন বক্তারা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে ‘ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্রেন্টস (প্রত্যাশা-২)’ প্রকল্পের আওতায় বিদেশফেরতদের সহায়তায় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রেফারেল মেকানিজম স্থাপনের লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ রানার সভাপতিত্বে কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার আজিজ আহমেদ।
কর্মশালায় সিলেটের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মাহমুদা সুলতানা বলেন, “বিদেশে যাওয়া খারাপ কিছু না, সঠিক নিয়মে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে গেলে বিশ্বের যেকোনো দেশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। বিদেশে যাওয়ার আগে ভাষা ও কাজের ওপর দক্ষতা অর্জন করে বিদেশে গেলে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। বিদেশফেরতদের মানসিক অবস্থার উন্নতির জন্য তাদের প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করতে হবে।”
মূল প্রবন্ধে আজিজ আহমেদ প্রত্যাশা-২ প্রকল্পের লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, বিদেশফেরত বাংলাদেশিরা যেন দেশে ফিরে সামাজিক, মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, সে লক্ষ্যে ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এ কার্যক্রমে বিশেষভাবে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সভায় বক্তারা সিলেট অঞ্চলের অভিবাসন পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, এ অঞ্চলের অনেক মানুষ আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে বিদেশে যান। আত্মীয়ের মাধ্যমে যাওয়ার কারণে প্রতারণার ঝুঁকি নেই—এমন ধারণা থেকে অনেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ও দক্ষতা অর্জনের বিষয়ে উদাসীন থাকেন। ফলে বিদেশে গিয়ে কাজ ও ভাষা না জানার কারণে অনেকে প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হন।
বক্তারা বলেন, বিদেশ যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কাজের ওপর প্রশিক্ষণ এবং গন্তব্য দেশের ভাষা শেখা জরুরি। প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে বিদেশে গেলে ভালো কাজ ও বেতন পাওয়ার সুযোগ বাড়ে এবং প্রতারণার ঝুঁকিও কমে।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবদুর রফিক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সিলেটের ব্যবস্থাপক শাহ মো. এনামুল হাকিম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবদুর রউফ শাহ এবং সৌদি আরবফেরত নারী অভিবাসী বিশ্বনাথের লুকসানা বেগম ও কুলাউড়ার রোজিনা বেগম।
এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ব্যাংকার, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিদেশগামী ও বিদেশফেরত ব্যক্তিরা কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় অভিবাসীদের কল্যাণে ব্র্যাকের কার্যক্রমের প্রশংসা করা হয় এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ব্র্যাক ২০০৬ সাল থেকে দেশের অভিবাসনপ্রবণ জেলাগুলোতে নিরাপদ অভিবাসন, বিদেশফেরতদের পুনঃএকত্রীকরণ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অভিবাসন খাতে অ্যাডভোকেসিসহ বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।