Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সিলেট রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ, চিকিৎসক-নার্সসহ জনবল সংকটে সেবা

হাসপাতালই যদি অসুস্থ থাকে, অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করবে কীভাবে?’

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ • ১১:১১ পূর্বাহ্ন

এনামুল হক মুন্না, জকিগঞ্জ (সিলেট):

সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ বাড়লেও চিকিৎসক, নার্স ও কারিগরি জনবল সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতায় ব্যাহত হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা। সম্প্রতি রাতে হাসপাতালটি পরিদর্শন করে দুই ওয়ার্ডের পাশাপাশি মেঝেতেও রোগীদের শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। জরুরি বিভাগেও ছিল রোগীদের ভিড়।


এনামুল হক মুন্নার ভাষ্য অনুযায়ী, জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে পাঁচজন এবং ২৮টি নার্স পদের বিপরীতে ১২ জন কর্মরত রয়েছেন। এক্স-রে ও এনজিওগ্রাম বিভাগের টেকনিশিয়ান না থাকায় অন্য বিভাগ থেকে জনবল দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের চালক থাকলেও সেটি প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে। এরপরও সীমিত সক্ষমতার মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সটি প্রাথমিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে।


জকিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের বিষয়টি নতুন নয়। চলতি বছরের জুলাইয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। তখনও চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শূন্যপদ, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংকট, অ্যাম্বুলেন্সের সমস্যা এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।


সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া তুলনামূলক কম হওয়ায় মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের রোগীদের কাছে এর চাহিদা বেশি। ফলে অ্যাম্বুলেন্স সেবায় বিঘ্ন ঘটলে প্রত্যন্ত ও সীমান্তবর্তী এলাকার রোগীদের ভোগান্তি আরও বাড়ে।


এদিকে, হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এর আগে বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলে জানান এনামুল হক মুন্না। তার ভাষ্য, সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ও সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে হাসপাতালের সংকটের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে এবং জকিগঞ্জকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল।


সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের সময়ও হাসপাতালটির জনবল ও অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো সামনে আসে। ওই সময় সংশ্লিষ্টরা জানান, জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামো ৫০ শয্যায় উন্নীত করার উপযোগী হলেও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও জনবল না থাকায় হাসপাতালটি এখনো ৩১ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।


হাসপাতালের সরকারি ওয়েবসাইটেও সীমিত জনবল ও সম্পদের মধ্যে সেবা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ৫০ শয্যা হাসপাতালের জনবল অনুমোদন না হওয়ায় বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসা-সুবিধা দিয়ে সন্তোষজনক সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।


তবে নানা সংকটের মধ্যেও হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান এনামুল হক মুন্না। তার দাবি, জনবল সংকট থাকলেও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা কম থাকলেও হাসপাতালের বিভিন্ন অংশকে মোটামুটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা দেখা গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


এনামুল হক মুন্না বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন কর্মসূচি কিংবা পরিচিত রোগীদের প্রয়োজনে তাকে প্রায়ই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। এ সময় রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন সমস্যা ও ভোগান্তির কথা শুনে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেন।


তার ভাষায়, “সত্যি বলতে হাসপাতালটি নিজেই অসুস্থ, সেখানে অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করবে কীভাবে?” তবে সংকটের মধ্যেও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সীমিত জনবল ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করছেন।


জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে সীমান্তবর্তী এ উপজেলার লাখো মানুষের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, অ্যাম্বুলেন্স সেবা সচল রাখা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com