জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি: শিক্ষাক্ষেত্রে দুই দশকের বেশি সময়ের অবদান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় গুণী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আবুল কালাম আজাদ। উপজেলা পর্যায়ের বাছাই শেষে তাঁর প্রার্থিতার ফাইল জেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মো. আবুল কালাম আজাদ জকিগঞ্জের গঙ্গাজল হাসানিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। প্রায় ২২ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি মাদ্রাসা বোর্ডের প্রধান পরীক্ষক, আইসিটি মাস্টার ট্রেইনার, সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণসহ শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি একাধিকবার নিজ প্রতিষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারেও রয়েছে আবুল কালাম আজাদের অভিজ্ঞতা। মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাঠদান ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠদানে কাজ করছেন তিনি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে মোটিভেশনাল বক্তা হিসেবেও বক্তব্য দিয়েছেন।
২০২৩ সালে গঙ্গাজল হাসানিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের তথ্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
নিজের শিক্ষাজীবনেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রয়েছে আবুল কালাম আজাদের। জকিগঞ্জের ইছামতি দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় কেন্দ্রের সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। পরে ফাজিল ও কামিল পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে সিলেটের এমসি কলেজ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রকাশিত পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে তাঁর দাখিল পরীক্ষায় ৭১৩ নম্বর অর্জন এবং ফাজিল ও কামিল পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
কর্মজীবনের শুরুতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আবুল কালাম আজাদ। পরে বারহাল ডিগ্রি কলেজে বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কাজ করেন। ২০০৪ সালে গঙ্গাজল হাসানিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় বাংলা প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। ২০০৬ সালে স্থানীয় কয়েকজন তরুণকে সঙ্গে নিয়ে ‘ট্যালেন্টস হোম’ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে জকিগঞ্জে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
শিক্ষকতার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি বসুন্ধরা শুভ সংঘের ‘শুভ কাজে সবার পাশে’ জকিগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি। বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। তিনি জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবেরও একজন সদস্য।
এ ছাড়া ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ৮ম এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৮ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ প্রায় ১৪ হাজার প্রার্থীর একজন তিনি।
দীর্ঘ শিক্ষকতা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় উপজেলা পর্যায়ের বাছাই প্রক্রিয়ায় তাঁকে গুণী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তাঁর প্রার্থিতার ফাইল জেলা পর্যায়ে পাঠানোর মধ্য দিয়ে পরবর্তী বাছাই প্রক্রিয়ার জন্য তা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।