Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ০৭:৫৯ অপরাহ্ন

বালাগঞ্জে সেতু নির্মাণ নিয়ে মুখোমুখি গ্রামবাসী

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ বসতভিটা ও ফসলি জমি ক্ষতির আশঙ্কা, খালের ওপর সেতু নির্মাণের দাবি
ছবি

বালাগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার বালাগঞ্জ-খসরুপুর সড়কের করচারপাড় এলাকায় প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিদ্যমান ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্টের স্থলে সেতু নির্মাণ করা হলে বসতভিটা, ফসলি জমি ও মালিকানাধীন ভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, নির্ধারিত স্থানের পরিবর্তে করচার খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হোক।


এ নিয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বালাগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন করচারপাড় গ্রামের বাসিন্দারা।


স্থানীয়দের দাবি, বালাগঞ্জ-খসরুপুর সড়কের রাধাকোনা-করচারপাড়ের মধ্যবর্তী এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ বছর আগের একটি পুরোনো ক্ষতিগ্রস্ত সেতু বিদ্যমান থাকলেও করচারপাড় গ্রাম এলাকায় সড়কের প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে অপরিকল্পিতভাবে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। তাঁদের অভিযোগ, এলাকাবাসীর আপত্তি উপেক্ষা করে বসতভিটা ও মালিকানাধীন ভূমির আশপাশে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছিল।


সরেজমিনে দেখা যায়, করচারপাড় এলাকায় সড়কের ওপর একটি ছোট কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত ও হেলে পড়া অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৪ সালের বন্যায় কালভার্টটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশের বসতবাড়ির মাটি পড়ে কালভার্টটির একটি বড় অংশ ঢেকে গেছে।


স্থানীয়রা জানান, কালভার্টের দুই পাশে শত শত একর ফসলি জমি, বসতভিটা ও মালিকানাধীন ভূমি রয়েছে। ফলে সেখানে নতুন করে সেতু নির্মাণ করা হলে জমি ও বসতবাড়ির ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।


স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্টের উত্তর পাশে দিগর বেড়কুড়ি মৌজার জেএল নম্বর ১৩৬-এর ২৫৯, ২৬২ ও ২৬৩ নম্বর দাগে সুলেমান মিয়া, সাইদুল ইসলাম মশাহিদসহ কয়েকজনের মালিকানাধীন বাড়ি ও আমন চাষের জমি রয়েছে।


এ ছাড়া কালভার্টের দক্ষিণ পাশে ১৭০, ১৭৪ ও ১৭৫ নম্বর দাগে আব্দুল বারী, মাহতাব উদ্দিন ও আব্দুল আলীসহ আরও কয়েকজনের মালিকানাধীন বসতভিটা ও ফসলি জমি রয়েছে বলে তাঁরা জানান।


গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ওই এলাকায় আগে কোনো সরকারি খাল বা নালা ছিল না। এমনকি মাটির রাস্তা থাকার সময়ও সেখানে কোনো কালভার্ট ছিল না। তাঁদের আপত্তি উপেক্ষা করেই কালভার্টটি নির্মাণ করা হয় বলে দাবি করেন তাঁরা।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন করচারপাড় গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম মশাইদ। তিনি বলেন, তাঁদের মালিকানাধীন ভূমিতে সেতু স্থাপনের সিদ্ধান্ত থেকে সংশ্লিষ্টদের সরে দাঁড়াতে হবে। অন্যথায় তাঁরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।


তিনি বলেন, তাঁদের মূল্যবান ভূমি রক্ষায় সরকারের কাছে ন্যায্য দাবি জানানো হচ্ছে। কিন্তু তাঁদের ক্ষতির মুখে ফেলে সেতু নির্মাণে অতি উৎসাহী একটি মহল বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে সম্মানহানি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


সাইদুল ইসলাম আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্টের অতি নিকটে রাধাকোনা ও করচারপাড় গ্রামের মধ্যবর্তী করচার খালের ওপর আগের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি সেতু রয়েছে। নতুন বরাদ্দ পাওয়া সেতুটি করচার খালের ওপর পুনর্নির্মাণ করা হলে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন। তাই নতুন সেতুটি করচার খালের ওপর নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দাবি জানান তিনি।


তিনি আরও বলেন, করচার খালের সঙ্গে পিংলাকোনা খাল নামে একটি সরকারি খালের সংযোগ রয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের বন্যায় পিংলাকোনা খাল পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে পিংলাকোনা ও করচার খাল খননের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সাইদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কতিপয় ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। করচারপাড় গ্রামের কবরস্থান পানির নিচে তলিয়ে গেছে—এমন বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।


তাঁর ভাষ্য, গ্রামবাসীর সহযোগিতায় কবরস্থানে মাটি ভরাট করে সেটি ৮ থেকে ১০ ফুট উঁচু করা হয়েছে। বর্তমানে কবরস্থানটি কমপক্ষে ৫ ফুট উঁচু রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ধরনের প্রচারণার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান তিনি।


সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল বারী, সুলেমান মিয়া, মাহতাব উদ্দিন, আব্দুল আলী, ফাতেহা বেগম, পারভীন বেগম, জিলু বেগম, রেজিয়া বেগম, মেহতাব বেগম, রানী বেগমসহ এলাকার লোকজন।


এ বিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, “এলাকাবাসী সেখানে সেতু নির্মাণে আপত্তি তুলেছেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।”

বালাগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার বালাগঞ্জ-খসরুপুর সড়কের করচারপাড় এলাকায় প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিদ্যমান ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্টের স্থলে সেতু নির্মাণ করা হলে বসতভিটা, ফসলি জমি ও মালিকানাধীন ভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, নির্ধারিত স্থানের পরিবর্তে করচার খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হোক।


এ নিয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বালাগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন করচারপাড় গ্রামের বাসিন্দারা।


স্থানীয়দের দাবি, বালাগঞ্জ-খসরুপুর সড়কের রাধাকোনা-করচারপাড়ের মধ্যবর্তী এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ বছর আগের একটি পুরোনো ক্ষতিগ্রস্ত সেতু বিদ্যমান থাকলেও করচারপাড় গ্রাম এলাকায় সড়কের প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে অপরিকল্পিতভাবে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। তাঁদের অভিযোগ, এলাকাবাসীর আপত্তি উপেক্ষা করে বসতভিটা ও মালিকানাধীন ভূমির আশপাশে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছিল।


সরেজমিনে দেখা যায়, করচারপাড় এলাকায় সড়কের ওপর একটি ছোট কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত ও হেলে পড়া অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৪ সালের বন্যায় কালভার্টটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশের বসতবাড়ির মাটি পড়ে কালভার্টটির একটি বড় অংশ ঢেকে গেছে।


স্থানীয়রা জানান, কালভার্টের দুই পাশে শত শত একর ফসলি জমি, বসতভিটা ও মালিকানাধীন ভূমি রয়েছে। ফলে সেখানে নতুন করে সেতু নির্মাণ করা হলে জমি ও বসতবাড়ির ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।


স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্টের উত্তর পাশে দিগর বেড়কুড়ি মৌজার জেএল নম্বর ১৩৬-এর ২৫৯, ২৬২ ও ২৬৩ নম্বর দাগে সুলেমান মিয়া, সাইদুল ইসলাম মশাহিদসহ কয়েকজনের মালিকানাধীন বাড়ি ও আমন চাষের জমি রয়েছে।


এ ছাড়া কালভার্টের দক্ষিণ পাশে ১৭০, ১৭৪ ও ১৭৫ নম্বর দাগে আব্দুল বারী, মাহতাব উদ্দিন ও আব্দুল আলীসহ আরও কয়েকজনের মালিকানাধীন বসতভিটা ও ফসলি জমি রয়েছে বলে তাঁরা জানান।


গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ওই এলাকায় আগে কোনো সরকারি খাল বা নালা ছিল না। এমনকি মাটির রাস্তা থাকার সময়ও সেখানে কোনো কালভার্ট ছিল না। তাঁদের আপত্তি উপেক্ষা করেই কালভার্টটি নির্মাণ করা হয় বলে দাবি করেন তাঁরা।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন করচারপাড় গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম মশাইদ। তিনি বলেন, তাঁদের মালিকানাধীন ভূমিতে সেতু স্থাপনের সিদ্ধান্ত থেকে সংশ্লিষ্টদের সরে দাঁড়াতে হবে। অন্যথায় তাঁরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।


তিনি বলেন, তাঁদের মূল্যবান ভূমি রক্ষায় সরকারের কাছে ন্যায্য দাবি জানানো হচ্ছে। কিন্তু তাঁদের ক্ষতির মুখে ফেলে সেতু নির্মাণে অতি উৎসাহী একটি মহল বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে সম্মানহানি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


সাইদুল ইসলাম আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্টের অতি নিকটে রাধাকোনা ও করচারপাড় গ্রামের মধ্যবর্তী করচার খালের ওপর আগের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি সেতু রয়েছে। নতুন বরাদ্দ পাওয়া সেতুটি করচার খালের ওপর পুনর্নির্মাণ করা হলে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন। তাই নতুন সেতুটি করচার খালের ওপর নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দাবি জানান তিনি।


তিনি আরও বলেন, করচার খালের সঙ্গে পিংলাকোনা খাল নামে একটি সরকারি খালের সংযোগ রয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের বন্যায় পিংলাকোনা খাল পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে পিংলাকোনা ও করচার খাল খননের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সাইদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কতিপয় ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। করচারপাড় গ্রামের কবরস্থান পানির নিচে তলিয়ে গেছে—এমন বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।


তাঁর ভাষ্য, গ্রামবাসীর সহযোগিতায় কবরস্থানে মাটি ভরাট করে সেটি ৮ থেকে ১০ ফুট উঁচু করা হয়েছে। বর্তমানে কবরস্থানটি কমপক্ষে ৫ ফুট উঁচু রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ধরনের প্রচারণার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান তিনি।


সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল বারী, সুলেমান মিয়া, মাহতাব উদ্দিন, আব্দুল আলী, ফাতেহা বেগম, পারভীন বেগম, জিলু বেগম, রেজিয়া বেগম, মেহতাব বেগম, রানী বেগমসহ এলাকার লোকজন।


এ বিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, “এলাকাবাসী সেখানে সেতু নির্মাণে আপত্তি তুলেছেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।”

© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
channeljaintanews24.com