অনলাইন ডেস্ক :: ‘একটি কিনলে একটি ফ্রি’ ও ‘শতভাগ ক্যাশব্যাক’ অফারের প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের শত শত গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগে ‘আঁখি সুপার শপ’-এর পরিচালক আসমা শারমিন ওরফে আঁখি (৩২) ও তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর আলমকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রায় সাড়ে চার বছর আত্মগোপনে থাকার পর গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজশাহী নগর থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্যমতে, আসমা শারমিনের বিরুদ্ধে ১৫টি এবং তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর সোমবার সকালে আসমা শারমিনকে রাজশাহীর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর আলমকে পাবনার বেড়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিহাব উদ্দিন জানান, ২০২২ সালে সিলেটে মামলা হওয়ার পর থেকেই ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল। তাঁরা অন্যের নামে নিবন্ধিত মুঠোফোনের সিম ব্যবহার করে গাজীপুরে অবস্থান করছিলেন। সেখানে ‘এসএম ওয়েল মিলস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে অনলাইনে তেল বিক্রি শুরু করেন। পাশাপাশি অন্যের নামে নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করে নগদ হিসাব খুলে অর্থ লেনদেন করতেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট শহরতলির বটেশ্বর গইলাপাড়া এলাকায় ছিল ‘আঁখি সুপার শপ’-এর কার্যালয়। ২০২১ সালের ১৩ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ‘একটি পণ্য কিনলে একই পণ্য আরেকটি ফ্রি তথা শতভাগ ক্যাশব্যাক’ শিরোনামে একটি অফার চালু করা হয়।
আঁখি সুপার শপের ফেসবুক পেজে মোটরসাইকেল, ইলেকট্রনিক পণ্য ও বিভিন্ন গ্রোসারি পণ্যের ৩০ ও ৯০ দিনের প্যাকেজের প্রচারণা চালানো হতো। ‘একটি কিনলে একটি ফ্রি’ ও ‘শতভাগ ক্যাশব্যাক’–এর প্রচারণায় আকৃষ্ট হয়ে গ্রাহকেরা নগদ অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবেও টাকা জমা দেন।
একাধিক মামলার এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, পরে গ্রাহকদের পণ্য না দিয়ে ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর আসমা শারমিন ও তাঁর সহযোগীরা টাকা নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ ও গ্রাহকদের অভিযোগ, এভাবে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাহকের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছিল। তবে মোট অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে পুলিশ ও গ্রাহকদের দেওয়া তথ্যে নির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি।
গ্রাহকদের কয়েকজন জানান, ২০২১ সালের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। ২৭ ডিসেম্বর থেকে বটেশ্বর গইলাপাড়ার কার্যালয় তালাবদ্ধ দেখতে পান তাঁরা। পরে টাকা ফেরত ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গ্রাহকেরা সিলেটে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। এ ঘটনায় আসমা শারমিন ও জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়।
পুলিশ জানায়, আত্মগোপনে থাকা ওই দম্পতির অবস্থান শনাক্ত করতে গিয়ে সম্প্রতি পিরোজপুরের হাফিজুর রহমানের নামে নিবন্ধিত একটি মুঠোফোন নম্বরের সন্ধান পাওয়া যায়। ওই নম্বর ব্যবহার করে তাঁরা হোয়াটসঅ্যাপ চালাতেন। এ সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী নগর থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আসমা শারমিন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের হাসনিপুর গ্রামের আশরাফ হোসেনের মেয়ে। তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর আলম পাবনার বেড়া উপজেলার পুনডুরিয়া গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে।
প্রায় সাড়ে চার বছর পর অভিযুক্ত দম্পতি গ্রেপ্তারের ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরতের অপেক্ষায় থাকা গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে আশার সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলোতে প্রকাশিত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-