স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটের গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার বৃহত্তর সারীঘাট এলাকায় মাদ্রাসা, মসজিদ ও এতিমখানার নাম ব্যবহার করে চাঁদা ও অনুদান সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে ক্বারী নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কথিত এসব প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব, কাগজপত্র ও কার্যক্রমসহ অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ দাবিতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় জামিয়া কুরআনিয়া সারীঘাট মাদ্রাসায় বৃহত্তর সারীঘাট এলাকাবাসীর উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে একই বিষয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জামিয়া কুরআনিয়া সারীঘাট মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল হান্নান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এতে বলা হয়, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার ঠিকর নয়াখেল, বানই নয়াখেল, সরুফৌদ, রণীফৌদ, খলাগ্রামসহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা ক্বারী নাসির উদ্দিনের কথিত কার্যক্রম নিয়ে উদ্বিগ্ন। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘টিকর নয়াখেল হযরত কামিল শাহ শেখ নাসিরিয়া এতিমখানা মাদ্রাসা মসজিদ’ নামে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, ওই নামে এলাকায় কোনো স্বীকৃত মাদ্রাসা, মসজিদ বা এতিমখানা নেই এবং সেখানে কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীও নেই। এমনকি কোনো মাজারও নেই বলে তারা দাবি করেন। অভিযোগ করা হয়, একটি বসতভিটায় ঘর স্থাপনা তৈরি করে কথিত প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে গিয়ে চাঁদা ও অনুদান সংগ্রহ করা হচ্ছে।
অভিযোগে ক্বারী নাসির উদ্দিনের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি নয়াখেল টিকর গ্রামের বাসিন্দা কিংবা মুসলিম আলীর ছেলে নন। তাদের দাবি, তিনি ৫ নম্বর পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লাতু গ্রামের মৃত সিফত উল্লাহর ছেলে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র, উত্তরাধিকারী সনদসহ অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন কাগজপত্র ও লিফলেটের কপি লিখিত অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন লিফলেট ও প্রচারণায় নাসির উদ্দিনের নামের সঙ্গে ‘হাকিম, ক্বারী, সাংবাদিক, লেখক, শাহ, মুহতামিম, সভাপতি, খাদেম, প্রতিষ্ঠাতা ও শেখ’সহ বিভিন্ন পদবি ও পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের সিল, প্যাড ও স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও এতিমখানার নাম ব্যবহার করে কেউ প্রতারণা করলে এর প্রভাব প্রকৃত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও পড়ে। এতে দানশীল মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হতে পারে এবং প্রকৃত মাদ্রাসা, মসজিদ ও এতিমখানাগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সারীঘাট এলাকার জামিয়া কুরআনিয়া মাদ্রাসাসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সুনামও ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
এ সময় এলাকাবাসী দানশীল ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া নাসির উদ্দিনের কথিত প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো ধরনের চাঁদা বা অনুদান না দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি কোনো দপ্তর, জনপ্রতিনিধি, চেয়ারম্যান, মেম্বার বা সংসদ সদস্য যেন যথাযথ যাচাই ছাড়া কথিত প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কোনো সুপারিশ বা সহযোগিতা না করেন, সেই আহ্বানও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ৫ নম্বর পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, খরিলহাট মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আবু হানিফ, লাফনাউট মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব মাওলানা ফয়জুল করিম, লামনিগ্রাম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, সারীঘাট মাদ্রাসার সাবেক মুহতামিম মাওলানা শিব্বির আহমেদ, সারীঘাট মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি হাজী নুরুদ্দিন, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সারোয়ার বেলাল, গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি মনজুর আহমদ, ইসলামিয়া আন্দোলন গোয়াইনঘাট থানার সভাপতি হাফিজ ইশ্রাক আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অভিযোগকারীরা জানান, কথিত প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব, পরিচয়, কাগজপত্র, অনুদান সংগ্রহের কার্যক্রম এবং অভিযোগে উত্থাপিত অন্যান্য বিষয় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে যাচাই ছাড়া ওই কথিত প্রতিষ্ঠানের নামে অনুদান বা সুপারিশ দেওয়া না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ক্বারী নাসির উদ্দিনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।