Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
পিবিআইয়ের তদন্তে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি, জামিন ও চিকিৎসার দাবি

সাগর-রুনি হত্যা মামলায় সাড়ে ১৩ বছর কারাগারে এনাম

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ • ০১:১৭ অপরাহ্ন

ডেস্ক নিউজ :

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তারের পর সাড়ে ১৩ বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবীর। দীর্ঘ এই সময়ে মামলার তদন্ত চললেও এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে সাম্প্রতিক তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


এনাম আহমেদ বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব-দক্ষিণভাগ গ্রামের মৃত মকবুল আলী ওরফে কালা মিয়ার ছেলে। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ঢাকায় একটি ভবনের নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ওই ভবনেরই বাসিন্দা সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ডের পর তাঁকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়।


দীর্ঘ কারাবাসে মানসিক ভারসাম্য হারানোর অভিযোগ


পরিবারের সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার কারণে এনাম আহমেদের মানসিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। পিবিআইয়ের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল কাশিমপুর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সে সময় তিনি অনেক প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি, অনেক বিষয় মনে করতে পারছিলেন না এবং তাঁর বক্তব্য ছিল এলোমেলো। তদন্ত কর্মকর্তার পর্যবেক্ষণেও তাঁকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বলে মনে হয়েছে।


কারা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন বন্দী থাকার কারণে এনাম বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। তাঁকে সাধারণ বন্দীদের থেকে আলাদা ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দ্রুত সুচিকিৎসার প্রয়োজন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


তদন্তে এখনো মেলেনি সম্পৃক্ততার প্রমাণ


২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের একটি বাসা থেকে সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।


প্রথমে থানা-পুলিশ ও পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। পরবর্তীতে তদন্তের দায়িত্ব পায় র‌্যাব। দীর্ঘ সময়েও তদন্ত প্রতিবেদন না আসায় একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা—পিবিআই।


সাম্প্রতিক পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর বিভাগের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকালে এখন পর্যন্ত এনাম আহমেদের বিরুদ্ধে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


বাবাকেও তুলে নেওয়ার অভিযোগ পরিবারের


এনামের পরিবারের ভাষ্য, তাঁর গ্রেপ্তারের আগেও তাঁর বাবা কালা মিয়াকে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল। পরিবারের দাবি, প্রায় ২১ দিন পর তাঁকে ভৈরবের কাছে অসুস্থ অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়। ওই ঘটনার পর তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান।


পরিবারের সদস্যরা জানান, বাবার অসুস্থতা, আর্থিক সংকট এবং দীর্ঘদিনের ভয়-আতঙ্কের কারণে এনামের মামলাটি নিয়মিতভাবে পরিচালনা করাও তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।


এনামের মা ফাতেমা বেগমের দাবি, তাঁর ছেলে যদি অপরাধী হয়ে থাকে তাহলে যথাযথ বিচার হওয়া উচিত। তবে তদন্তে অপরাধের প্রমাণ না মিললে তাঁকে আর কারাগারে আটকে না রেখে মুক্তি দেওয়া হোক।


রুনির ভাইও চান এনামের মুক্তি


এনামের পরিবারের পাশাপাশি সাগর-রুনি হত্যা মামলার বাদী ও নিহত সাংবাদিক মেহেরুন রুনির ভাই নওশের আলমও এনামের জামিন ও চিকিৎসার পক্ষে মত দিয়েছেন।


নওশের আলমের বক্তব্য, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত আসামিদের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন দীর্ঘদিন হয়রানির শিকার না হন। তিনি এনাম আহমেদকে জামিনে মুক্তি দিয়ে তাঁর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।


সাগর-রুনি হত্যার রহস্য উদঘাটন ও প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের দাবি দীর্ঘদিনের। একই সঙ্গে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি যদি দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পরও তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়া যায়, তাহলে তাঁর আইনগত ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com