প্রবাসে বাংলার ঐতিহ্যের মেলবন্ধন, ফ্রান্সে শেষ হলো ‘বাংলার মেলা’
ফ্রান্স প্রতিনিধি:
প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে ফ্রান্সে জমজমাট আয়োজনে শেষ হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলার মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব’।
অ্যাসোসিয়েশান সেঁকানো বাঙালির উদ্যোগে গত ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর লা কুরনভের জর্জ ভালবোঁ প্রাদেশিক উদ্যানে এ মেলার আয়োজন করা হয়। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিশু-কিশোর, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মেলা পরিণত হয় বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মিলনমেলায়।
মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজন ছিল। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মেলার বিভিন্ন আয়োজনে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, খাবার, হস্তশিল্প ও লোকজ সংস্কৃতির নানা উপকরণ প্রদর্শন করা হয়। এর মাধ্যমে ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী ও নতুন প্রজন্মের সামনে বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
তরুণদের ক্রিকেটে সম্পৃক্ত করতে এএসবি ক্রিকেট ক্লাবের যাত্রা
‘বাংলার মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব’-এর অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রবাসী তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ। ফ্রান্সে বাংলাদেশি ক্রিকেটের চর্চা বাড়ানো এবং তরুণদের নিয়মিত খেলাধুলায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এএসবি ক্রিকেট ক্লাবের যাত্রা শুরু করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, ক্রিকেটের মাধ্যমে প্রবাসী তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
অ্যাসোসিয়েশানের সভাপতি সরুফ সদিওল বলেন, প্রবাসে নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করে তোলার পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করাও জরুরি। বাংলার মেলার মতো আয়োজনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক চর্চার পাশাপাশি ক্রীড়া কার্যক্রমকেও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর তানিম বলেন, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রবাসী তরুণদের ক্রিকেটে উৎসাহিত করতে এএসবি ক্রিকেট ক্লাবের যাত্রা শুরু হয়েছে।
উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা
মেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন সেইন-সাঁ-দেনি বিভাগের পরিষদের সভাপতি স্টেফান ত্রুসেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সহসভাপতি ওরিয়ান ফিলোল, সাঁ-দেনি পৌরসভার কাউন্সিলর ক্যাটি বন্তিঙ্ক এবং গার্জ-ল্য-গোনেস পৌরসভার কাউন্সিলর তানিয়া টুনু।
অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েশানের সভাপতি সরুফ সদিওল ও সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর তানিমসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা জানান, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে বাংলাদেশের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখার পাশাপাশি তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
দুই দিনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রবাসের মাটিতে বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আবহ তৈরি করে সফলভাবে শেষ হয় ‘বাংলার মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব’।