Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সিলেট রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

সাজু চৌধুরীর বিরুদ্ধে অপহরণ-নির্যাতন ও মুক্তিপণের অভিযোগ, মন্তাজগঞ্জে প্রতিবাদ সভা

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ • ১২:৪১ পূর্বাহ্ন

কানাইঘাট প্রতিনিধি:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের নারাইনপুর গ্রামের মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াহিদ চুনু মিয়াকে অপহরণ, বাসায় আটকে রেখে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের মন্তাজগঞ্জ বাজারে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। এতে নারাইনপুরসহ আশপাশের এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।


প্রতিবাদ সভায় আব্দুল ওয়াহিদ চুনু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তিনি মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের একজন নিরীহ মানুষ ও মৎস্য ব্যবসায়ী। প্রায় ১০ বছর আগে দর্পনগর গ্রামের আবুল মনসুর সাজু চৌধুরী মন্তাজগঞ্জ বাজারে তার পরিবারের নিজস্ব জমি দাবি করে সেখানে একটি মার্কেট নির্মাণের দায়িত্ব তাকে দেন। মার্কেট নির্মাণে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যয় হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন জায়গাটি সরকারি খাস জমি হওয়ায় নির্মিত মার্কেটটি সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেয়।


চুনু মিয়ার দাবি, মার্কেটটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর তিনি সাজু চৌধুরীর কাছে নির্মাণকাজের বকেয়া ১৬ লাখ টাকা দাবি করেন। এর বিপরীতে সাজু চৌধুরী তার কাছে ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাওনা দাবি করে তার স্বাক্ষর জাল করে স্ট্যাম্পে মামলা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে ওই মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তার পক্ষে রায় দেন।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই সময় স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের প্রত্যক্ষ শেল্টার ও মদদে সাজু চৌধুরী বিভিন্ন সময়ে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করেন। এছাড়া মৎস্যজীবী পরিচয় নিয়ে তাকে কটাক্ষ ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


প্রতিবাদ সভায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে চুনু মিয়া অভিযোগ করেন, গত ১ আগস্ট ব্যবসায়িক কাজে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা হয়ে সিলেট শহরের কদমতলি সংলগ্ন বাঁধের পাশে পৌঁছালে সাজু চৌধুরী ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন লোক ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে সিএনজি থেকে নামিয়ে জিম্মি করেন। পরে তাকে অন্য একটি সিএনজি গাড়িতে তুলে মুখ বেঁধে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে সিলেট শহরের লাকড়িপাড়ায় সাজু চৌধুরীর বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।


চুনু মিয়ার অভিযোগ, সেখানে তাকে প্রথমে বাসার বাথরুমে আটকে রাখা হয়। পরে একটি কক্ষে নিয়ে মাথায় বারবার বৈদ্যুতিক শক দেওয়াসহ শারীরিক নির্যাতন করা হয়। রাতভর আটকে রেখে তার কাছে ৭৮ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে দাবি করে টাকা পরিশোধ না করলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, ওই সময় তার ব্যাগে থাকা নগদ ৭ হাজার টাকা এবং পূবালী ব্যাংক কানাইঘাট শাখার এটিএম কার্ড নিয়ে নেওয়া হয়। মারধর করে কার্ডের পিন নম্বর জেনে সিলেট শহরের উপশহর এলাকার পূবালী ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে তার লোকজনের মাধ্যমে ৫৫ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।


চুনু মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, পরদিন তার বাবা আব্দুল জব্বার সাজু চৌধুরীর বাসায় গিয়ে নগদ ২ লাখ টাকা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাকে শারীরিক নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করা হয় এবং ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও পূবালী ব্যাংকের তিনটি চেক পাতায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনসহ কাউকে জানালে প্রাণে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন চুনু মিয়া।


চুনু মিয়া জানান, ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর তিনি বাদী হয়ে সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে আবুল মনসুর সাজু চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে আরও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি দরখাস্ত মামলা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।


মামলা দায়েরের পরও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে চুনু মিয়া মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং নিজের ও পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত আব্দুল ওয়াহিদের বাবা আব্দুল জব্বার, বিশিষ্ট মুরব্বি হাজী বিলাল মিয়া, আব্দুল আজিজ, মন্তাজগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী শাহীন আহমদ, এলাকার মুরব্বি জমির উদ্দিন, হোসন আহমদ, আতাউর রহমান, আলমাছ উদ্দিন, কামাল উদ্দিন ও বুরহান উদ্দিনসহ অনেকে ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।


অভিযোগ অস্বীকার সাজু চৌধুরীর


এদিকে আবুল মনসুর সাজু চৌধুরী অপহরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আব্দুল ওয়াহিদ চুনু মিয়ার কাছে তার পাওনা টাকা রয়েছে, যা এলাকার মানুষ জানেন। চুনু মিয়া একজন মিথ্যাবাদী। বারবার তারিখ করেও পাওনা টাকা পরিশোধ না করে তিনি, তার বাবা ও ভাগ্না মিলে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।


প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর আগে চলতি বছরের আগস্টেও সাজু চৌধুরীকে ঘিরে কানাইঘাটে পুলিশসংক্রান্ত একটি বিরোধের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে বর্তমান অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com