গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিলেটের গোলাপগঞ্জে ‘গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব’ নামে একটি ৩১ সদস্যের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মহলে বিভ্রান্তি ও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। একদিকে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) একটি পক্ষ ৩১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে পরিচিতি ও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান করেছে। অন্যদিকে, গোলাপগঞ্জের মূলধারার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রকৃত, পেশাদার ও কর্মরত সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে শিগগিরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের একটি রেস্তোরাঁর হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব’-এর ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি হয়েছেন ছানু মিয়া (দৈনিক সিলেটের বাণী), সাধারণ সম্পাদক হারিছ আলী (দৈনিক যুগান্তর) এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাহাদাত হোসেন কামাল (কামাল খান)।
কমিটির অন্যান্যরা হলেন—সিনিয়র সহসভাপতি শাহান উদ্দিন নাজু, সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম আনসারী ও শাহ আলম, সহসাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমদ ও মো. সেলিম আহমদ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন ও সাহেদ আহমদ রিপন, দপ্তর সম্পাদক সাইফুর রহমান, সহদপ্তর সম্পাদক রহিম উদ্দিন মুন্না, কোষাধ্যক্ষ শিহাব উদ্দিন, সহকোষাধ্যক্ষ কামরুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আব্দুল আবিদ, সহপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. সোলেমান হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জুবের আহমদ সার্জন, আইন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল করিম আকবরী, দুর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এইচ এম সেলিম এবং ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হাসিব।
সদস্য হিসেবে রয়েছেন মজির উদ্দিন, মো. সেবুল হোসেন, খালেদ আহমদ, সাজ্জাদ আজির, তাওহীদ উদ্দিন, এম.এ. মালেক, তবারক আলী, শারুফ উদ্দিন, লায়েক আহমদ ও হারুনুর রশীদ।
কমিটি ঘোষণার পর পরিচিতি সভা ও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নবগঠিত কমিটির সভাপতি ছানু মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হারিছ আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাহাদাত হোসেন কামালের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট বিভাগীয় রিপোর্টার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুনির্মল সেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা এম সিরাজুল ইসলাম, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া, প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা কামরান উদ্দিন বাদল ও উপদেষ্টা মাওলানা নুরুল হুদা। বক্তব্য দেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি শাহান উদ্দিন নাজু, সাধারণ সম্পাদক হারিছ আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাহাদাত হোসেন কামাল। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সাহেদ আহমদ রিপন এবং পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আব্দুল হাসিব।
এদিকে, এই কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গোলাপগঞ্জের মূলধারার সাংবাদিকদের মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মূল প্রেসক্লাবে স্থান না পেয়ে একটি পক্ষ নিজেদের উদ্যোগে কমিটি ঘোষণা করেছে, যা নিয়ে সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তবে এই দাবির বিষয়ে কমিটি গঠনকারী পক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
মূলধারার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকৃত, পেশাদার ও কর্মরত সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে শিগগিরই নির্বাচনের আয়োজন করা হবে।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন দিলু বলেন, “আমরা গোলাপগঞ্জের মূলধারার প্রকৃত ও কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে শিগগিরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করব। গোলাপগঞ্জের সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করে একটি প্রেসক্লাব গঠন করাই আমাদের লক্ষ্য। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠন করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো বিভ্রান্তিকর নাম বা কথিত কমিটি নিয়ে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন। গোলাপগঞ্জের সাংবাদিকদের ঐক্য ও পেশাগত মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে আমরা স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছি।”
সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়; বরং পেশাদার ও কর্মরত সাংবাদিকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী, গ্রহণযোগ্য, গণতান্ত্রিক ও প্রতিনিধিত্বশীল প্রেসক্লাব গঠনই তাদের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং খুব শিগগিরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
এর আগে, গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের বিভাজন নিরসন করে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব গঠনের উদ্যোগের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। গত কয়েক মাসে প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
তবে একই সময়ে ‘গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব’ নামে পৃথক ৩১ সদস্যের কমিটি ঘোষণার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
গোলাপগঞ্জের সাংবাদিকদের একটি অংশ আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিনিধিত্বশীল নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হবে। একই সঙ্গে প্রেসক্লাবের কমিটি ও নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।