Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
channeljaintanews24.com
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ০৫:০৫ অপরাহ্ন
channeljaintanews24@gmail.com

রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ শুধু নামেই? পাসপোর্টের জন্য প্যারিসে সারারাত দূতাবাসের সামনে প্রবাসীরা

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
🕒 রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ০৫:০৫ অপরাহ্ন

ফ্রান্স প্রতিনিধি:

দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে প্রবাসীদের বলা হয় ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’। কিন্তু বিদেশের মাটিতে সেই প্রবাসীদের নাগরিক সেবা পেতে যদি রাতভর দূতাবাসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠছে—রাষ্ট্রের কাছে তাঁদের প্রাপ্য সেবা কোথায়?


ফ্রান্সে বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ই-পাসপোর্টের আবেদন ও নবায়নের জন্য অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পাওয়ায় অনেক প্রবাসীকে মধ্যরাতের পর প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে এসে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। রাতভর অপেক্ষার পরও পরদিন সেবা মিলবে কি না, সেই নিশ্চয়তা না থাকায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।


সেবাপ্রত্যাশীদের ভাষ্য, ভোর হওয়ার আগেই দূতাবাসের সামনে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। অতিরিক্ত ভিড়, সিরিয়াল পাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং হুড়োহুড়ির কারণে কখনো কখনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি সিরিয়াল নেওয়াকে কেন্দ্র করে ভিড়ের মধ্যে একটি শিশু আহত হয়েছে বলেও কয়েকজন সেবাগ্রহীতা জানিয়েছেন। এতে নারী, শিশু ও প্রবীণদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


পাসপোর্টের প্রয়োজন মেটাতে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহর থেকে বাংলাদেশিরা প্যারিসে আসছেন। প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরের শহর থেকেও অনেকে রাতে যাত্রা করে ভোরের আগে দূতাবাসে পৌঁছান বলে সেবাপ্রত্যাশীরা জানিয়েছেন।


লিল শহর থেকে আসা এক সেবাপ্রত্যাশী জানান, অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পাওয়ায় মধ্যরাতে প্যারিসের উদ্দেশে রওনা হতে হয়েছে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা কর্মজীবী, প্রবীণ ও পরিবারসহ আসা মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।


আরেক সেবাপ্রত্যাশী স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে রাত জেগে দূতাবাসের সামনে অপেক্ষা করার কথা জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার জন্য পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থাও নেই। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে এভাবে রাত কাটানো অত্যন্ত দুর্ভোগের।


পাসপোর্ট নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ


প্রবাসীদের অভিযোগ, পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভ্রমণ, পরিচয় যাচাইসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে সময়মতো পাসপোর্ট নবায়ন করতে না পারা অনেকের জন্য শুধু ভোগান্তিই নয়, বাস্তব প্রশাসনিক সমস্যারও কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।


প্রবাসীদের বড় একটি অংশ নিয়মিত দেশে অর্থ পাঠান। তাঁদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, পরিবার-পরিজনের জীবনযাত্রা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক আলোচনায় তাঁদের প্রায়ই ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়।


কিন্তু প্রবাসীদের প্রশ্ন—দেশে টাকা পাঠানোই কি তাঁদের একমাত্র দায়িত্ব? নাগরিক হিসেবে তাঁদের পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, ভিসা-সংক্রান্ত কাজ, ট্রাভেল পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা পাওয়ার অধিকারও কি নিশ্চিত করা হবে না?


দূতাবাসের বক্তব্য


প্রবাসীদের অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিসের পক্ষ থেকেও বাস্তব সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব ও কনস্যুলার দায়িত্বে থাকা কে এফ এম সরহাদ শাকিল জানান, জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে আলাদা ডেস্ক স্থাপন করে সেবা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গা ও জনবল নেই। একই সঙ্গে দূতাবাসকে বিভিন্ন ধরনের কনস্যুলার সেবা পরিচালনা করতে হয়। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জরুরি পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে দূতাবাস কাজ করছে বলে তিনি জানিয়েছেন। দূতাবাসের সরকারি কর্মকর্তাদের তালিকাতেও কে এফ এম সরহাদ শাকিলকে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই বিশেষ ‘Walk-In’ সেবা


প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিস আগস্ট ২০২৬-এর প্রতি বুধবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই ই-পাসপোর্ট এনরোলমেন্টের বিশেষ ‘Walk-In’ সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। দূতাবাসের সরকারি ওয়েবসাইটে ১৪ আগস্ট এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।


এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রবাসীরা। তবে তাঁদের মূল প্রশ্ন, বিশেষ ‘Walk-In’ সেবা কি দীর্ঘদিনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংকট ও অতিরিক্ত ভিড়ের স্থায়ী সমাধান করতে পারবে?


স্থায়ী সমাধানের দাবি


প্রবাসীদের দাবি, পাসপোর্ট সেবাকে রাতভর লাইনে দাঁড়ানোর ওপর নির্ভরশীল না করে একটি স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও জবাবদিহিমূলক অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পাশাপাশি ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে আঞ্চলিকভাবে কনস্যুলার সেবা সম্প্রসারণ, নারী-শিশু ও প্রবীণদের অগ্রাধিকার, জরুরি পাসপোর্টের জন্য পৃথক ডেস্ক এবং দূরবর্তী শহর থেকে আসা প্রবাসীদের নির্ধারিত সময়ে সেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিসের সরকারি ওয়েবসাইটে পাসপোর্ট ছাড়াও জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু নিবন্ধন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ট্রাভেল পারমিটসহ বিভিন্ন কনস্যুলার সেবার তথ্য দেওয়া রয়েছে।


প্রবাসীদের বক্তব্যও স্পষ্ট—তাঁরা শুধু অর্থ পাঠানোর মানুষ নন; তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক। দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি বিদেশের মাটিতে তাঁদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।


প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে রাতভর দাঁড়িয়ে থাকা প্রবাসীদের দীর্ঘ সারি তাই শুধু একটি পাসপোর্টের লাইনের ছবি নয়; এটি রাষ্ট্র ও প্রবাসীর সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে—‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ নামটি যদি শুধু স্লোগানে সীমাবদ্ধ না থাকে, তাহলে তাঁদের নাগরিক সেবার নিশ্চয়তা কবে মিলবে?

ছবি
channeljaintanews24.com
logo
ভিজিট করুন
৩০.০৮.২০২৬
© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
channeljaintanews24.com