Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
channeljaintanews24.com
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ০৫:০৩ অপরাহ্ন
channeljaintanews24@gmail.com

শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় অশ্রুসিক্ত বিদায় জয়শ্রী ভট্টাচার্যের

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
🕒 রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ০৫:০৩ অপরাহ্ন

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি:

দীর্ঘ ৩৬ বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষে সরকারি বিধি অনুযায়ী অবসরে গেলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের জগজীবনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জয়শ্রী ভট্টাচার্য। প্রিয় শিক্ষিকার বিদায় উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই শিক্ষক।


শনিবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় জগজীবনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে জয়শ্রী ভট্টাচার্যকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নার্গিস বেগম। ব্যবস্থাপনা কমিটির বিদ্যোৎসাহী সদস্য মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হারুন রশীদ, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নমীতা সরকার, কাঠইর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কাজী নুরুল হক নোমান, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম, ছাব্বির আহমদ, এমরান হোসাইন, ভীমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফয়জুল ইসলাম, সদর উপজেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রমজান হোসাইন, বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র দিনার আহমদ, রবিউল হাসান রবি, তোফায়েল আহমেদ ও রুয়েল আহমদ।


স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফাহমিদা বেগম। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কবিতা আবৃত্তি করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবরিনা বেগম ও ছিদরাতুল মুনতাহা।


বক্তারা বলেন, জয়শ্রী ভট্টাচার্য একজন কৃতী ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ছিলেন। দায়িত্ব পালনে তিনি কখনো অবহেলা করেননি। নিয়মিত ও সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি তাদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। প্রয়োজনের সময় শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের পড়াশোনার খোঁজখবরও নিয়েছেন।


বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে জয়শ্রী ভট্টাচার্য এ এলাকায় জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন। তাঁর আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা এলাকাবাসী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবেন। এ সময় বক্তারা তাঁর ও তাঁর পরিবারের সবার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।


বিদায়ী বক্তব্যে নিজের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জয়শ্রী ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আমি ১৯৯০ সালে চাকরিজীবনে প্রবেশ করি এবং এই এলাকায় আসি ২০০৮ সালে। তখন সময়টা এত সহজ ছিল না। বন্যা হলে রাস্তা ডুবে যেত। আমি ছিলাম বাগানের মেয়ে, হাওরের জীবন সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না।”


তিনি আরও বলেন, “বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে পার হওয়ার সময় আমার কষ্ট দেখে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এগিয়ে আসতেন। কেউ আমার ব্যাগ নিয়ে নিতেন, কেউ ছাতা ধরে সহযোগিতা করতেন। আজ এসবই স্মৃতি।”


জয়শ্রী ভট্টাচার্য বলেন, তাঁর অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশ-বিদেশে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। এ এলাকায় তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর কাটিয়েছেন। বিদায়বেলায় পরিচিত মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মায়াময় মুখগুলো তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠছে।


এ সময় আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে সহযোগিতা করার জন্য এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রিয় শিক্ষিকার কান্না দেখে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেককেও আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে দেখা যায়।


ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা প্রিয় শিক্ষিকাকে বিদায় জানান। এ সময় তাঁকে বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান এবং গলায় পুষ্পমাল্য পরিয়ে সম্মান জানানো হয়।


পরে শতাধিক উপহারসামগ্রী ও প্রায় ১০-১৫টি কেক কাটার মধ্য দিয়ে বিদায়ী সংবর্ধনার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। দুপুরের খাবার শেষে সাবেক শিক্ষার্থীদের দেওয়া গাড়িতে করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে সুনামগঞ্জ শহরের নিজ বাসার উদ্দেশে রওনা দেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা জয়শ্রী ভট্টাচার্য।


দীর্ঘ ৩৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ দিনটি শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা, সহকর্মীদের শ্রদ্ধা এবং এলাকাবাসীর আবেগঘন বিদায়ে স্মরণীয় হয়ে থাকল এই নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষিকার।

ছবি
channeljaintanews24.com
logo
ভিজিট করুন
৩০.০৮.২০২৬
© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
channeljaintanews24.com