Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সিলেট রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সোনাই নদীর দুই তীরে হাজারো দর্শনার্থীর ঢল

আপত্তি-বাধা পেরিয়ে বিয়ানীবাজারে জমজমাট নৌকাবাইচ

২৯ আগস্ট ২০২৬ • ১২:০১ পূর্বাহ্ন

বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি: স্থানীয় একটি পক্ষের আপত্তি ও বাধার মধ্যেও উৎসবমুখর পরিবেশে সিলেটের বিয়ানীবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সোনাই নদীতে লাউতা-বাহাদুরপুর যুব সমাজের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।


নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই নদীর দুই তীরে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে এসে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন উপভোগ করেন। প্রতিযোগিতা ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।


জানা যায়, লাউতা ইউনিয়নের লাউতা ও বাহাদুরপুর যুব সমাজের উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারও বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তবে এবার আয়োজনের শুরু থেকেই স্থানীয় ‘তৌহিদী জনতা’ নামে একটি পক্ষ আপত্তি জানায়। প্রতিযোগিতা বাতিলের দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করার পাশাপাশি বারিগ্রাম বাজার মসজিদে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’ ব্যানারে সভা করেও নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানানো হয়।


এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হলে ২২ আগস্ট দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন জানান, এ বছর নির্ধারিত সময়েই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে; তবে পরবর্তী বছর থেকে সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজন না করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।


এরপর শুক্রবার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সোনাই নদীতে শুরু হয় নৌকাবাইচ। বিকেলে নানা রঙে সজ্জিত নৌকা নিয়ে প্রতিযোগীরা নদীতে নামেন। এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ ও ‘পাগলা নাও’ নামের তিনটি নৌকা।


বাইচ চলাকালে মাঝিমাল্লাদের বৈঠার ছন্দের সঙ্গে নদীর দুই তীরে উপস্থিত দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে ওঠে। ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইছে’, ‘নাও ছাড়িয়া দে, পাল উড়াইয়া দে’সহ বিভিন্ন লোকজ গানের সুরে মাঝিমাল্লারা প্রতিযোগিতাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন।


এর আগে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হওয়ায় এবারের আয়োজনটি নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আগ্রহ তৈরি হয়। ফলে দূর-দূরান্ত থেকেও অনেক মানুষ এ আয়োজন দেখতে বিয়ানীবাজারে আসেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নদীর তীরবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন।


নৌকাবাইচে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইচ শেষে সন্ধ্যায় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।


তবে অন্যদিকে প্রথম আলো ও ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্ধকার নেমে আসায় শেষ পর্যায়ের ফাইনাল প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি এবং পরে বৈঠকের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়। ফলে পুরস্কার বিতরণ ও চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।


আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, বাধা ও আপত্তি সত্ত্বেও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর দাবি, এবারের বাইচ দেখতে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি মানুষ নদীর দুই তীরে জড়ো হয়েছিলেন।


তিনি বলেন, “আগামীতে বাইচ হবে কি না, তা স্থানীয় জনতাই সিদ্ধান্ত নেবে।”


স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের এই নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এলাকার মানুষের মিলনমেলা ও গ্রামীণ সংস্কৃতির অন্যতম ঐতিহ্য। এবারের আয়োজনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পরও বিপুল মানুষের অংশগ্রহণে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com