কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় দলটির পাঁচ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমদের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মৌলভীবাজারের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া, মো. তোফায়েল আহমেদ, সাহেল আহমেদ, ফাহিম আহমেদ জনি ও সোহাগ মিয়া।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে কুলাউড়া পৌর শহরের বিছরাকান্দি ও উত্তর বাজার এলাকায় এনসিপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা সাত থেকে ১০ জনের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এনসিপির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমদ ও তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়ার অনুসারীদের বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে এ বিরোধের জেরেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে তামিম আহমদ বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় এহসান জাকারিয়াকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে তামিম আহমদ অভিযোগ করেন, জেলা কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার কথা বলে অভিযুক্তরা তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করলে বিরোধ আরও তীব্র হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তামিম আহমদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি মৌলভীবাজার থেকে বড়লেখার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথে কুলাউড়া এলাকায় অভিযুক্তরা তাঁর পথরোধ করে অপহরণের চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বাধা দিলে তাঁদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তামিম আহমদসহ কয়েকজন আহত হন বলে তিনি দাবি করেন।
তবে ঘটনার বিষয়ে এনসিপির অন্য পক্ষ থেকে পাল্টা বক্তব্যও পাওয়া গেছে। মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খালেদ আহমদ জানান, বিষয়টি দলীয়ভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের কয়েকজন নেতা-কর্মীর ওপরও হামলা হয়েছে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের পদক্ষেপে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুলাউড়ায় এনসিপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। সংঘর্ষ ও মামলার পর এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।