Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সিলেট রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
নিহত আব্দুস সাত্তারের পরিবারের পাশে মহানগর বিএনপি

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর

২৭ আগস্ট ২০২৬ • ০৩:৫৭ অপরাহ্ন

ডেস্ক নিউজ :

সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।


রোববার (২৪ আগস্ট) তিনি নিহত ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তারের মিতালী-১১১ নম্বর বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য ও উদ্বেগের কথা শোনেন।


এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাদির খান, দপ্তর সম্পাদক তারেক আহমদ খান, কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুল মুমিন এবং সিলেট জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি রিয়াজ আহমদ।


পরিবারের পক্ষ থেকে নিহত আব্দুস সাত্তারের ছেলে আরিফ ইফতেখার মামলার তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে পরিবারের উদ্বেগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।


পরিবারের বক্তব্য শোনার পর ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ট্রিপল মার্ডার মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নগরবাসীর প্রত্যাশা। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পাশাপাশি প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।


তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে গ্রেপ্তার আসামিকে পুনরায় রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে। পাশাপাশি পরিবারের ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে যেসব বিষয় বা ব্যক্তিকে সন্দেহের আওতায় এনে তদন্তের দাবি জানানো হচ্ছে, সেগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।


এ সময় তিনি মুঠোফোনে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেন। আলাপকালে তিনি ট্রিপল মার্ডার মামলার তদন্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তদন্তের প্রয়োজনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করে আরও দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানান।


ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, আবার প্রকৃত অপরাধীও যেন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে—তদন্তে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


যেভাবে ঘটে ট্রিপল মার্ডার


গত ১২ আগস্ট সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।


ঘটনার পর পুলিশ বাবুল মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়। পুলিশ এ ঘটনায় দ্রুত রহস্য উদঘাটনের দাবি করলেও পরবর্তী সময়ে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরও বিস্তৃত তদন্তের দাবি জানানো হয়।


এদিকে নিহত আব্দুস সাত্তারের মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি এখনো পুলিশের তদন্তের ওপর নির্ভরশীল।


ট্রিপল মার্ডারকে ঘিরে একাধিক সম্ভাব্য কারণ ও সংশ্লিষ্টতার বিষয় সামনে আসায় তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত নেপথ্য কারণ কী—তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে নগরবাসীর মধ্যে।


নিহত আব্দুস সাত্তারের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ইমদাদ হোসেন চৌধুরী তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com