ডেস্ক নিউজ : সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন ইসলামাবাদ এলাকায় ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন (৬৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জালাল আহমদ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যার পর স্থানীয়রা তাকে সন্দেহবশত আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে জালাল আহমদকে শাহাব উদ্দিন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে ইসলামাবাদ এলাকায় নিজ বাসার অদূরে শাহাব উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে শাহপরাণের ইসলামাবাদ এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। চারখাই বাজারে তার ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা ছিল।
হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ জানিয়েছিল, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। হত্যার আগে দুর্বৃত্তরা শাহাব উদ্দিনকে অনুসরণ করছিল বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর স্থানীয়রা জালাল আহমদকে সন্দেহবশত আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, জালাল আহমদের বাড়ি সুনামগঞ্জে এবং তিনি শাহপরাণ এলাকায় ভাড়া থাকতেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি দাবি করেন, স্থানীয় এক দর্জির স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাহাব উদ্দিন তাকে গালিগালাজ করলে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তাকে হত্যা করেন বলে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়।
তবে এসব বক্তব্য এখনো পুলিশের আনুষ্ঠানিক তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। জালাল আহমদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শাহপরাণ (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। হত্যার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসামি আদালতে জবানবন্দি দিলে বিষয়টি জানা যাবে; এর আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি।
এদিকে, নিহত শাহাব উদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে শাহপরাণ থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার পর তদন্তে আরও সক্রিয় হয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জালাল আহমদের সম্পৃক্ততা, হত্যার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। আদালতে আসামির জবানবন্দি ও তদন্তের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এর আগে গত ১২ আগস্ট সিলেট মহানগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর ‘নিকুঞ্জ ভিলা’ থেকে ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনা (২৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত চালাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ওই হত্যাকাণ্ডের পেছনেও গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুল নামে এক ব্যক্তির সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছিল।
এর রেশ কাটতে না কাটতেই দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নগরীর শাহপরাণ এলাকায় আরেক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শাহাব উদ্দিন হত্যার রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।