Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সুনামগঞ্জ রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সিলেট-ছাতক রেলপথে ট্রেন চলাচল কবে শুরু হবে, অনিশ্চয়তা

ছাতক-সিলেট রেলপথ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ, কাজ হয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ

২৬ আগস্ট ২০২৬ • ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

ছাতক সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি।

ঐতিহ্যবাহী সিলেট-ছাতক রেলপথ পুনর্বাসনে ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি; সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্মকর্তার হিসাবে এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। ফলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এ রেলপথে ট্রেন চলাচল কবে নাগাদ আবার শুরু হবে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

রেলওয়ে সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় সিলেট-ছাতক রেলপথের বিভিন্ন অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন রেল চলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্থানে রেললাইন, স্লিপার ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনাও ঘটে।

রেলপথটি পুনর্বাসনে ‘২০২২ সালের বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেট থেকে ছাতক বাজার অংশের (মিটার গেজ ট্র্যাক) পুনর্বাসন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেড।

প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ সংস্কার, মাটি ভরাট, কালভার্ট ও সেতু মেরামত, নতুন স্লিপার স্থাপন, নতুন রেললাইন বসানো এবং স্টেশন সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজ রয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদ ২৩ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ছিল। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর হিসাবে প্রকল্পের প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের আওতাধীন ৯৬টি পাইলিং পয়েন্টের মধ্যে ৮৫টির কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সিলেট রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘৯৬টি পাইলিং পয়েন্টের মধ্যে ৮৫টির কাজ শেষ হয়েছে। মাটি ভরাট ও কালভার্টের কাজও চলছে। প্রকল্পের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কাজ হয়েছে, এখনো ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ কাজ বাকি।’

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ ২৩ আগস্ট শেষ হয়েছে। এখন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো ও পরবর্তী বাস্তবায়ন বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।

রেলওয়ে সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ধীরগতির কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি এবং মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে সরেজমিনে রেলপথের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, পুরোনো রেললাইন অপসারণসহ কিছু কাজ করা হলেও নতুন ট্র্যাক স্থাপন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো অনেকাংশে বাকি। ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ, হাসনাবাদ, কালারুকা, মাধবপুর, তাজপুর, ছৈলা-আফজলাবাদ এবং সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী, সৎপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর কিছুদিন বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম দেখা গেলেও পরে কাজের গতি অনেকটাই কমে যায়। ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথের উচ্চতা নির্ধারণ ও মাটি ভরাটের সমন্বয় নিয়েও কিছু এলাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা জানান।

সিলেট-ছাতক রেলপথের ঐতিহাসিক গুরুত্বও রয়েছে। ১৯৫৪ সালে সিলেট থেকে ছাতক বাজার পর্যন্ত রেলপথটি নির্মাণ করা হয়। ছাতকের চুনাপাথরসহ বিভিন্ন শিল্পপণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহনে এই রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জের মানুষ সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতে রেলপথটি ব্যবহার করতেন।

ছাতকের পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী আবুল হাসান বলেন, ছাতকের সিমেন্ট, চুনাপাথর, বালি, পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে সিলেট-ছাতক রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের সড়কপথে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।

তিনি বলেন, রেলপথ সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু কাজের ধীরগতিতে সেই আশা অনেকটাই হতাশায় পরিণত হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করে রেল যোগাযোগ চালুর দাবি জানান তিনি।

ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, রেলপথ চালু হলে সিলেটের সঙ্গে ছাতকসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের খরচও কমবে। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় তাঁরা উদ্বিগ্ন।

কুমনা গ্রামের শিক্ষার্থী অলিউর রহমান অলিদ বলেন, একসময় ছাতক ও দোয়ারাবাজার এলাকার শিক্ষার্থীরা ট্রেনে করে সিলেটের এমসি কলেজ, মদন মোহন কলেজ ও টেকনিক্যাল কলেজে যাতায়াত করতেন। রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে এখন বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করে সড়কপথে চলাচল করতে হচ্ছে।

এর আগে রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, প্রকল্পটি শেষ হলে সিলেট-ছাতক রেলপথে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হবে। ২০২৫ সালের শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা উল্লেখ করে দেড় বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা জানানো হয়েছিল।

তবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রকল্পের বড় একটি অংশের কাজ বাকি থাকায় এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—কবে শেষ হবে পুনর্বাসন কাজ, আর কবে আবার সিলেট-ছাতক রেলপথে ট্রেনের হুইসেল শোনা যাবে? স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ চালু করা হোক।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com