কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে অবৈধভাবে সাদাপাথর উত্তোলন, মজুদ ও পরিবহন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে ৫ হাজার ২০ ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে। এ সময় সাদাপাথর ভাঙার কাজে ব্যবহৃত তিনটি ক্রাশার মিল অকেজো করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে পাথর পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক্টরও জব্দ করেছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘণ্টা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করে।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার প্রথমে উপজেলার কলাবাড়ি স্কুলের দক্ষিণ পাশে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসনের একটি দল। সেখানে অবৈধভাবে সাদাপাথর মজুদ এবং ভাঙার কাজে ব্যবহৃত তিনটি ক্রাশার মিলের সন্ধান পাওয়া যায়।
অভিযানকালে ওই স্থান থেকে ১ হাজার ২০০ ঘনফুট আস্ত সাদাপাথর এবং ৩ হাজার ৫০০ ঘনফুট ভাঙা পাথর জব্দ করা হয়। পরে পাথর ভাঙার কাজে ব্যবহৃত তিনটি ক্রাশার মিল অকেজো করে দেওয়া হয়।
তবে প্রশাসনের অভিযানের খবর পেয়ে সংশ্লিষ্টরা আগেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরে উপজেলা প্রশাসনের দল উপজেলার লিলাই বাজার ঘাট এলাকায় দ্বিতীয় দফায় অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে অবৈধভাবে সাদাপাথর পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক্টর জব্দ করা হয়। এ সময় আরও ৩২০ ঘনফুট আস্ত সাদাপাথর জব্দ করা হয়। অভিযান টের পেয়ে ট্রাক্টরচালকরাও পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ট্রাক্টর দুটি প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়।
প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, দুই দফার অভিযানে মোট ১ হাজার ৫২০ ঘনফুট আস্ত পাথর এবং ৩ হাজার ৫০০ ঘনফুট ভাঙা পাথর জব্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জব্দ করা পাথরের পরিমাণ ৫ হাজার ২০ ঘনফুট।
সম্প্রতি কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর নিয়ে ব্যাপক লুটপাট ও অবৈধ উত্তোলনের অভিযোগ ওঠার পর উপজেলা প্রশাসন অবৈধভাবে সাদাপাথর উত্তোলন, মজুদ ও পরিবহনের বিরুদ্ধে নজরদারি জোরদার করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারের এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাদাপাথরসহ বালু-পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন, মজুদ ও পরিবহন প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান এবং আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এদিকে প্রশাসনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ পাথর জব্দ ও ক্রাশার মিল অকেজো করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু পাথর ও পরিবহনের যানবাহন জব্দ কিংবা ক্রাশার মিল অকেজো করলেই হবে না। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন, মজুদ ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় এসব কার্যক্রম চালাতে না পারে, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।