Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
২৫ আগস্ট ২০২৬ · ১১:৪১ অপরাহ্ন

ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে ৪৩৪ গাছ কাটায় প্রশ্ন, নিলাম ও মূল্যায়নে স্বচ্ছতা চায় হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
ছবি

সেলিম মাহবুব, ছাতক:

সুনামগঞ্জের ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের পাশে থাকা ৪৩৪টি গাছ নিলামে বিক্রির পর কেটে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গাছগুলোর নিলাম, মূল্য নির্ধারণ, কাঠের পরিমাণ ও নিলাম প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে নিলাম প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন, ছাতক উপজেলা শাখা।


বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের তকিপুর মসজিদ থেকে তাজপুর বাজার পর্যন্ত সড়কের পাশে থাকা বন বিভাগের চিহ্নিত ৪৩৪টি গাছ নিলামের জন্য নির্ধারণ করা হয়। সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় গাছগুলো লট হিসেবে নিলামে দেওয়া হয়েছে। নিলাম কার্যাদেশ বাস্তবায়ন করা হয় চলতি বছরের ১০ আগস্ট।


বন বিভাগের কার্যাদেশ অনুযায়ী, ৪৩৪টি গাছ ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকায় নিলামে পেয়েছেন সুনামগঞ্জের আলী ইমাম আল মাহমুদ সুমন। সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই কার্যাদেশে বলা হয়েছে, নিলামলব্ধ অর্থের মধ্যে উপকারভোগীরা পাবেন ৯ লাখ ৬৪ হাজার ৮০০ টাকা এবং সরকার পাবে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ টাকা।


বন বিভাগের তালিকা অনুযায়ী, নিলামে বিক্রি হওয়া গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে রেন্টি ১৭৪টি, মেহগনি ১১৪টি, আকাশমনি ২৮টি, শিশু ৪৫টি, জাম ২৬টি, পিটালী ১০টি, অর্জুন ১০টি, ছাতিয়ান ৭টি, জারুল ৬টি, গামার ৬টি, কড়ই ৩টি, চাম্বুল ২টি, বাবলা ১টি ও কদম ২টি।


বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এসব গাছে কাঠ রয়েছে ৩ হাজার ৫২৯ ঘনফুট এবং জ্বালানি কাঠ রয়েছে ২ হাজার ৬৭১ ঘনফুট। বর্তমানে নিলামে বিক্রি হওয়া গাছগুলো কেটে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।


গাছ নিলাম, মূল্য নির্ধারণ, কাঠের পরিমাণ এবং নিলাম প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের বিষয়ে ছাতকের ফরেস্ট-বিট কর্মকর্তা কেবিএম ফেরদৌস বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের জন্য সুষ্ঠু নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছগুলো নিলাম করা হয়েছে।


নিলাম নিয়ে প্রশ্ন হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের


এদিকে ৪৩৪টি গাছের নিলাম ও মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন, ছাতক উপজেলা শাখা। সংগঠনটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গাছগুলোর প্রকৃত বাজারমূল্য, সরকারি মূল্যায়ন এবং নিলাম প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ ও উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করা হয়েছে কি না—তা জনসম্মুখে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।


সংগঠনটির দাবি, সরকারি সম্পদ হিসেবে এসব গাছের মূল্য নির্ধারণ ও নিলাম প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। গাছের প্রজাতি, বয়স, আকার, কাঠের পরিমাণ ও বাজারমূল্য বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি।


হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বলেন, জনগণের সম্পদ কোনোভাবেই কম মূল্যে হস্তান্তরের সুযোগ থাকা উচিত নয়। ৪৩৪টি গাছের নিলামে প্রকৃত বাজারমূল্য ও প্রতিযোগিতামূলক দর নিশ্চিত হয়েছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।


তারা প্রয়োজনে নিলাম প্রক্রিয়া ও মূল্যায়ন নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানান। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বার্থসংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা এবং নিলামসংক্রান্ত সব তথ্য জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন ছাতক উপজেলা শাখার আহ্বায়ক দিলোয়ার হোসেন ও সদস্যসচিব সুজন তালুকদার বলেন, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের গাছ নিলামে যথাযথ স্বচ্ছতা ছিল না বলে তাদের ধারণা। গাছ কাটার বিষয়ে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


তারা আরও বলেন, গাছ কাটার যৌক্তিকতা নিয়ে দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর-সাচনা সড়কের বৃক্ষ কর্তন স্থগিত করা হয়েছে। তাদের মতে, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের গাছ নিলাম ও মূল্যায়নের বিষয়টিও একইভাবে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা দরকার।


সংগঠনটির নেতারা বলেন, গাছগুলোর প্রকৃত মূল্যায়ন, নিলামে অংশগ্রহণকারী ও দরদাতাদের তথ্য, নিলাম প্রক্রিয়া এবং সরকারি ও উপকারভোগীদের প্রাপ্য অর্থসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য প্রকাশ করা হলে জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের অবসান ঘটবে।


এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত নিলাম ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সেলিম মাহবুব, ছাতক:

সুনামগঞ্জের ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের পাশে থাকা ৪৩৪টি গাছ নিলামে বিক্রির পর কেটে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গাছগুলোর নিলাম, মূল্য নির্ধারণ, কাঠের পরিমাণ ও নিলাম প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে নিলাম প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন, ছাতক উপজেলা শাখা।


বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের তকিপুর মসজিদ থেকে তাজপুর বাজার পর্যন্ত সড়কের পাশে থাকা বন বিভাগের চিহ্নিত ৪৩৪টি গাছ নিলামের জন্য নির্ধারণ করা হয়। সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় গাছগুলো লট হিসেবে নিলামে দেওয়া হয়েছে। নিলাম কার্যাদেশ বাস্তবায়ন করা হয় চলতি বছরের ১০ আগস্ট।


বন বিভাগের কার্যাদেশ অনুযায়ী, ৪৩৪টি গাছ ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকায় নিলামে পেয়েছেন সুনামগঞ্জের আলী ইমাম আল মাহমুদ সুমন। সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই কার্যাদেশে বলা হয়েছে, নিলামলব্ধ অর্থের মধ্যে উপকারভোগীরা পাবেন ৯ লাখ ৬৪ হাজার ৮০০ টাকা এবং সরকার পাবে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ টাকা।


বন বিভাগের তালিকা অনুযায়ী, নিলামে বিক্রি হওয়া গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে রেন্টি ১৭৪টি, মেহগনি ১১৪টি, আকাশমনি ২৮টি, শিশু ৪৫টি, জাম ২৬টি, পিটালী ১০টি, অর্জুন ১০টি, ছাতিয়ান ৭টি, জারুল ৬টি, গামার ৬টি, কড়ই ৩টি, চাম্বুল ২টি, বাবলা ১টি ও কদম ২টি।


বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এসব গাছে কাঠ রয়েছে ৩ হাজার ৫২৯ ঘনফুট এবং জ্বালানি কাঠ রয়েছে ২ হাজার ৬৭১ ঘনফুট। বর্তমানে নিলামে বিক্রি হওয়া গাছগুলো কেটে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।


গাছ নিলাম, মূল্য নির্ধারণ, কাঠের পরিমাণ এবং নিলাম প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের বিষয়ে ছাতকের ফরেস্ট-বিট কর্মকর্তা কেবিএম ফেরদৌস বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের জন্য সুষ্ঠু নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছগুলো নিলাম করা হয়েছে।


নিলাম নিয়ে প্রশ্ন হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের


এদিকে ৪৩৪টি গাছের নিলাম ও মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন, ছাতক উপজেলা শাখা। সংগঠনটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গাছগুলোর প্রকৃত বাজারমূল্য, সরকারি মূল্যায়ন এবং নিলাম প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ ও উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করা হয়েছে কি না—তা জনসম্মুখে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।


সংগঠনটির দাবি, সরকারি সম্পদ হিসেবে এসব গাছের মূল্য নির্ধারণ ও নিলাম প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। গাছের প্রজাতি, বয়স, আকার, কাঠের পরিমাণ ও বাজারমূল্য বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি।


হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বলেন, জনগণের সম্পদ কোনোভাবেই কম মূল্যে হস্তান্তরের সুযোগ থাকা উচিত নয়। ৪৩৪টি গাছের নিলামে প্রকৃত বাজারমূল্য ও প্রতিযোগিতামূলক দর নিশ্চিত হয়েছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।


তারা প্রয়োজনে নিলাম প্রক্রিয়া ও মূল্যায়ন নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানান। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বার্থসংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা এবং নিলামসংক্রান্ত সব তথ্য জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন ছাতক উপজেলা শাখার আহ্বায়ক দিলোয়ার হোসেন ও সদস্যসচিব সুজন তালুকদার বলেন, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের গাছ নিলামে যথাযথ স্বচ্ছতা ছিল না বলে তাদের ধারণা। গাছ কাটার বিষয়ে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


তারা আরও বলেন, গাছ কাটার যৌক্তিকতা নিয়ে দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর-সাচনা সড়কের বৃক্ষ কর্তন স্থগিত করা হয়েছে। তাদের মতে, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের গাছ নিলাম ও মূল্যায়নের বিষয়টিও একইভাবে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা দরকার।


সংগঠনটির নেতারা বলেন, গাছগুলোর প্রকৃত মূল্যায়ন, নিলামে অংশগ্রহণকারী ও দরদাতাদের তথ্য, নিলাম প্রক্রিয়া এবং সরকারি ও উপকারভোগীদের প্রাপ্য অর্থসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য প্রকাশ করা হলে জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের অবসান ঘটবে।


এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত নিলাম ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
channeljaintanews24.com