Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সুনামগঞ্জ রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

সুনামগঞ্জে সড়কের ৪৫০০ গাছ কাটার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, বন বিভাগের ‘সিন্ডিকেট’ ভাঙার দাবি

২৫ আগস্ট ২০২৬ • ১১:২৯ অপরাহ্ন

সেলিম মাহবুব, ছাতক:

সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কের পাশে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ গাছ কাটার প্রতিবাদে এবং বৃক্ষনিধনের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে গাছ কাটা বন্ধ, গাছ কাটার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।


শনিবার (২২ আগস্ট) সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইচ্ছারচর বাজার পয়েন্টে সংগঠনটির উদ্যোগে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন সহসভাপতি মো. মুজাহিদুল ইসলাম মজনু, ওবায়দুল মুন্সী, মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক এম ডি জাকারিয়া, ছাতক উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব উজ্জীবক সুজন তালুকদার, দোয়ারাবাজার উপজেলা কমিটির সদস্য মোফাজ্জল হাসানসহ সামাজিক বনায়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, নারী সদস্য ও স্থানীয় পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা।


সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কের পাশে থাকা ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। তাদের দাবি, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমানে ওই সড়কে কোনো সম্প্রসারণ বা উন্নয়নমূলক কাজ চলমান নেই। অথচ উন্নয়ন প্রকল্পের দোহাই দিয়ে গাছ কাটার ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


বক্তারা বলেন, সওজের বক্তব্যের সঙ্গে বন বিভাগের গাছ কাটার কার্যক্রমের বৈপরীত্যের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। গাছ কাটার নেপথ্যে বন বিভাগের কোনো অসাধু চক্র বা ‘সিন্ডিকেট’ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে কি না, তা তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।


তারা আরও বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সড়কের পাশের এসব গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলা হলে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় মানুষের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইতোমধ্যে কেটে ফেলা গাছের ক্ষতিপূরণ হিসেবে সড়কের পাশে দ্বিগুণ পরিমাণে নতুন সামাজিক বনায়ন করারও দাবি জানান তারা।


সমাবেশ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কে গাছ কাটার কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা, সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীদের প্রাপ্য লভ্যাংশ যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেওয়া এবং গাছ কাটার সঙ্গে বন বিভাগের কর্মকর্তা, সুবিধাভোগী, স্থানীয় প্রশাসন বা কোনো প্রভাবশালী মহলের কেউ জড়িত থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।


এ ছাড়া অবৈধভাবে গাছ বিক্রির পরিকল্পনা ও বৃক্ষনিধনের সঙ্গে জড়িত বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।


বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাছ কাটা বন্ধ না হলে হাওর এলাকার সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বন বিভাগের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। একই দাবি বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।


বন বিভাগের বক্তব্য


এদিকে, গাছ কাটার বিষয়ে সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিনের বক্তব্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তিনি জানান, সড়কের দুই পাশের গাছগুলো সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে রোপণ করা হয়েছিল। গাছগুলোর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিক্রি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সুনামগঞ্জ থেকে সাচনাবাজার পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে এবং সে কারণেই গাছ কাটা হচ্ছে। লট ক্রেতারা টাকা জমা দিয়ে কার্যাদেশও নিয়েছেন।


অন্যদিকে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, গাছ কাটার সঙ্গে সওজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। টুকেরবাজার থেকে সাচনাবাজার পর্যন্ত সড়কে বর্তমানে তাদের কোনো চলমান প্রকল্প বা সড়ক সম্প্রসারণের কাজ নেই বলেও তিনি জানান।


ফলে সড়কের গাছ কাটার কারণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com