ফ্রান্স প্রতিনিধি:
ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোর ৪৩তম সাধারণ সম্মেলনের সভাপতি খন্দকার এম তালহা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাৎকালে দুই কূটনীতিক বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবস্থান, বহুপাক্ষিক কূটনীতি এবং দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে বাংলাদেশিদের দায়িত্ব পাওয়া দেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
খন্দকার এম তালহা ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইউনেস্কোর ৪৩তম সাধারণ সম্মেলনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ইউনেস্কোর নির্বাহী বোর্ডের নির্বাচনে তিনি জাপানের প্রার্থীকে ৩০-২৭ ভোটে পরাজিত করেন। এর মধ্য দিয়ে ইউনেস্কোর ৫৩ বছরের সদস্যপদ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মেলনের সভাপতির দায়িত্ব পায়।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ২ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। গোপন ব্যালটে তিনি ৯৯ ভোট পেয়ে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিসকে পরাজিত করেন। কাকৌরিস পান ৯১ ভোট।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব ড. খলিলুর রহমান ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য পালন করবেন। সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের অধিবেশন পরিচালনায় সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বাংলাদেশ এর আগে ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিল। সে সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রায় চার দশক পর আবারও বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হতে যাচ্ছেন।
কূটনৈতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে একই সময়ে বাংলাদেশিদের নেতৃত্ব দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করার পাশাপাশি বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের ভূমিকা জোরদারের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
বিশেষ করে শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, জাতিসংঘ সংস্কার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ড. খলিলুর রহমানও তাঁর দায়িত্বের অগ্রাধিকার হিসেবে আস্থা পুনর্গঠন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐকমত্য সৃষ্টি এবং জাতিসংঘের কার্যকর বহুপাক্ষিকতা জোরদারের কথা জানিয়েছেন।
এদিকে, খন্দকার এম তালহা ও ড. খলিলুর রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে সমন্বিত ভূমিকা ও পারস্পরিক সহযোগিতারও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের নেতৃত্ব দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, ইউনেস্কোর ৪৩তম সাধারণ সম্মেলন ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের উপস্থিতি দেশের কূটনীতির জন্য নিঃসন্দেহে একটি গৌরবের নতুন অধ্যায়।