স্টাফ রিপোর্টার :
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মাহতাব উদ্দিনের ফিশারিতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ২৫ থেকে ২৮ লাখ টাকার মাছ নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। একই পানি পান করে চারটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে উপজেলার বালুছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান মাহতাব উদ্দিন।
মাহতাব উদ্দিন জানান, বালুছড়া এলাকায় প্রায় ৬০ বিঘা জায়গাজুড়ে তাঁর ফিশারি রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলে আসছিল। এর মধ্যে ফিশারির মাছ মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগ করে মাহতাব উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার রাতে তিনজন ব্যক্তি ফিশারিতে প্রবেশ করে পানিতে বিষ প্রয়োগ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। ফিশারির পাহারাদার বিষয়টি টের পেয়ে আলো ফেললে ওই ব্যক্তিরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। প্রথমে পাহারাদাররা ধারণা করেছিলেন, তারা হয়তো মাছ চুরি করতে এসেছিল।
তিনি বলেন, পরদিন সকাল থেকে ফিশারির পানিতে মাছ মরে ভেসে উঠতে শুরু করে। একই পানি পান করার পর চারটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমানে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গরুগুলোর চিকিৎসা চলছে।
মাহতাব উদ্দিনের দাবি, বিষ প্রয়োগের ঘটনায় ফিশারিতে থাকা প্রায় ২৫ থেকে ২৮ লাখ টাকার মাছ নষ্ট হয়েছে। বিষয়টি তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। শিগগিরই আদালতে মামলা দায়ের করবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে ফিশারির পাশের কয়েকজন মালিক জানান, বিষমিশ্রিত পানি তাঁদের ফিশারিতে প্রবেশ করলে সেখানকার মাছও মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তাঁরা পানি বাঁধ দিয়ে আটকে রাখার ব্যবস্থা করতে বলেছেন।
মাছ নিধনের ঘটনায় রায়হান উদ্দিন, বোরহান উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন ও তাঁর ছেলে সাব্বির আহমদ, সোনাবান বিবি ও তাঁর ছেলে জামাল আহমদ ও কামাল আহমদ এবং আব্দুল খালিকের ছেলে মুহিবুর রহমানসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন মাহতাব উদ্দিন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।