উচ্চশিক্ষার জন্য চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (এইউডব্লিউ) প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ডলার বা ৭৪ লাখ টাকার বৃত্তি পেয়েছেন সিলেটের দুই তরুণী। তাঁরা হলেন—সিলেট নগরীর খারপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাচ্চু মিয়ার মেয়ে সুহানা আক্তার এবং জকিগঞ্জের আটগ্রাম-চারিগ্রাম এলাকার বাসিন্দা সাব্বির আহমদের মেয়ে নাফিসা সাব্বির চৌধুরী।
একই বৃত্তি পেয়েছেন হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস (জেমি)। তাঁর বৃত্তির বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে। চার বছর মেয়াদি এ বৃত্তির আওতায় প্রতিবছর ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, এ বৃত্তির আওতায় সুহানা ও নাফিসাসহ নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে চার বছর মেয়াদি স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন।
সুহানা আক্তারের এ সাফল্যে তাঁর পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন বৃত্তি অর্জন করায় সুহানা তাঁর পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছেন বলে মনে করছেন তাঁর ভাই সুজন আহমদ।
সুহানার স্বজন ও এলাকাবাসীর মতে, তাঁর এ অর্জন শুধু পরিবারের জন্যই গর্বের নয়; সিলেটের শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের জন্যও এটি অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত।
অন্যদিকে নাফিসা সাব্বির চৌধুরীর বৃত্তি অর্জনের খবরেও তাঁর পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। স্বজন ও স্থানীয়রা বলছেন, নাফিসার এ সাফল্য জকিগঞ্জের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার।
তাঁরা আশা করছেন, নাফিসা তাঁর মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবেন এবং দেশ ও এলাকার জন্য সম্মান বয়ে আনবেন।
এদিকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস জেমির বৃত্তি অর্জনের তথ্যও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। জানা যায়, তিনি চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে পড়াশোনার জন্য ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের চার বছর মেয়াদি বৃত্তি পেয়েছেন।
জেমির এ অর্জনও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, বৃত্তির খবর প্রথমে তাঁর বিশ্বাস হয়নি; পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি পড়ে বিষয়টি নিশ্চিত হন। এখন আরও এগিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন এবং অন্য শিক্ষার্থীরাও যেন এমন বৃত্তি অর্জন করতে পারে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সিলেটের সুহানা ও নাফিসা এবং হবিগঞ্জের জেমির এই অর্জন প্রমাণ করে, মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষার সুযোগ অর্জন করা সম্ভব।