Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
১৮ আগস্ট ২০২৬ · ১১:৪৪ অপরাহ্ন

কুশিয়ারা নদীর ডাইকের ভেতর ঝুঁকিপূর্ণ বসতঘর, বিপাকে জকিগঞ্জের দরিদ্র পরিবার

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে ৬ সদস্যের পরিবারের, নিরাপদ আশ্রয়ের দাবি
ছবি

জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:

সিলেটের জকিগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাইদ্রাবন্দ এলাকায় কুশিয়ারা নদীর ডাইকের ভেতরে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে একটি দরিদ্র পরিবার। নদীভাঙনের আশঙ্কার মধ্যেই দান করা একটি পাকাঘরে বসবাস করছেন পরিবারের ছয় সদস্য।


স্থানীয়দের ভাষ্য, কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে এ অঞ্চলের বহু মানুষ ইতোমধ্যে বসতভিটা হারিয়েছেন। নদীর তীরবর্তী এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় ডাইকের ভেতরে বসবাসকারী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।


সম্প্রতি ভূমি জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সিলেটের জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বিজিবির একজন সুবেদারসহ সংশ্লিষ্টরা ঝুঁকিপূর্ণ ওই পরিবারটির বসবাসের স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় পরিবারটির দুরবস্থা দেখে কর্মকর্তারাও বিস্ময় প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।


স্থানীয়দের দাবি, শুধু একটি পরিবার নয়, জকিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ডাইকের ভেতরে ও নদীতীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করছেন। কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে অসংখ্য পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাইদ্রাবন্দ এলাকার একটি মসজিদের বড় একটি অংশও একসময় নদীগর্ভে চলে যায়। পরে অন্যত্র নতুন করে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এছাড়া আমেরিকাপ্রবাসী ও আলমনগর গ্রামের বাসিন্দা আবিদ আহমদের বাড়ির পাশেও নতুন করে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। জকিগঞ্জ বাজারের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের বিভিন্ন অংশও নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। এতে উপজেলা সদর ও জকিগঞ্জ পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


ডাইকের ভেতর বসবাস সেলিমের পরিবারের


ঝুঁকিপূর্ণ ওই পরিবারের সদস্য সেলিম আহমদ জানান, তিনি, তাঁর মা ও বোন কয়েক বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তাদের মূল বাড়ি ছিল হাতিডহর গ্রামে। শ্রমিক হিসেবে কাজের সুবাদে তিনি জকিগঞ্জ পৌর এলাকায় এসে বসবাস শুরু করেন।


বর্তমানে মা, বোন, স্ত্রী ও সন্তানসহ মোট ছয় সদস্যের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। শ্রমিকের কাজ করেই সংসার চালাতে হয় তাকে। নিজের নামে এক ইঞ্চি জায়গাও নেই বলে জানান সেলিম।


স্থানীয়দের সহায়তায় সাবেক মেয়র ফারুক আহমদের দান করা একটি পাকাঘরে পরিবারটি বসবাস করছে। তবে ঘরটি কুশিয়ারা নদীর ডাইকের ভেতরে হওয়ায় যেকোনো সময় নদীভাঙন বা অন্য কোনো দুর্ঘটনায় পরিবারটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


নিরাপদ আশ্রয়ের আশ্বাস ইউএনওর


এ বিষয়ে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, ওই পরিবারের বর্তমান ঘরটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে তাদের বসবাস করা উচিত নয়।


সরকারি জায়গার জন্য পরিবারটির পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।


তবে প্রশ্ন উঠেছে—এক ইঞ্চি জায়গার মালিকানা না থাকা সেলিম আহমদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবেন? আত্মীয়স্বজন কিংবা প্রতিবেশীরা কতদিন পর্যন্ত ছয় সদস্যের এই পরিবারকে আশ্রয় দিতে পারবেন, সেটিও অনিশ্চিত।


এ অবস্থায় নদীভাঙন ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় পরিবারটির জন্য দ্রুত নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। পাশাপাশি কুশিয়ারা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ডাইকের ভেতরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোর তালিকা করে তাদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে।


এনামুল হক মুন্না

সেক্রেটারি, জকিগঞ্জ প্রেসক্লাব, সিলেট।

জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:

সিলেটের জকিগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাইদ্রাবন্দ এলাকায় কুশিয়ারা নদীর ডাইকের ভেতরে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে একটি দরিদ্র পরিবার। নদীভাঙনের আশঙ্কার মধ্যেই দান করা একটি পাকাঘরে বসবাস করছেন পরিবারের ছয় সদস্য।


স্থানীয়দের ভাষ্য, কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে এ অঞ্চলের বহু মানুষ ইতোমধ্যে বসতভিটা হারিয়েছেন। নদীর তীরবর্তী এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় ডাইকের ভেতরে বসবাসকারী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।


সম্প্রতি ভূমি জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সিলেটের জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বিজিবির একজন সুবেদারসহ সংশ্লিষ্টরা ঝুঁকিপূর্ণ ওই পরিবারটির বসবাসের স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় পরিবারটির দুরবস্থা দেখে কর্মকর্তারাও বিস্ময় প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।


স্থানীয়দের দাবি, শুধু একটি পরিবার নয়, জকিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ডাইকের ভেতরে ও নদীতীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করছেন। কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে অসংখ্য পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাইদ্রাবন্দ এলাকার একটি মসজিদের বড় একটি অংশও একসময় নদীগর্ভে চলে যায়। পরে অন্যত্র নতুন করে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এছাড়া আমেরিকাপ্রবাসী ও আলমনগর গ্রামের বাসিন্দা আবিদ আহমদের বাড়ির পাশেও নতুন করে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। জকিগঞ্জ বাজারের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের বিভিন্ন অংশও নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। এতে উপজেলা সদর ও জকিগঞ্জ পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


ডাইকের ভেতর বসবাস সেলিমের পরিবারের


ঝুঁকিপূর্ণ ওই পরিবারের সদস্য সেলিম আহমদ জানান, তিনি, তাঁর মা ও বোন কয়েক বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তাদের মূল বাড়ি ছিল হাতিডহর গ্রামে। শ্রমিক হিসেবে কাজের সুবাদে তিনি জকিগঞ্জ পৌর এলাকায় এসে বসবাস শুরু করেন।


বর্তমানে মা, বোন, স্ত্রী ও সন্তানসহ মোট ছয় সদস্যের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। শ্রমিকের কাজ করেই সংসার চালাতে হয় তাকে। নিজের নামে এক ইঞ্চি জায়গাও নেই বলে জানান সেলিম।


স্থানীয়দের সহায়তায় সাবেক মেয়র ফারুক আহমদের দান করা একটি পাকাঘরে পরিবারটি বসবাস করছে। তবে ঘরটি কুশিয়ারা নদীর ডাইকের ভেতরে হওয়ায় যেকোনো সময় নদীভাঙন বা অন্য কোনো দুর্ঘটনায় পরিবারটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


নিরাপদ আশ্রয়ের আশ্বাস ইউএনওর


এ বিষয়ে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, ওই পরিবারের বর্তমান ঘরটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে তাদের বসবাস করা উচিত নয়।


সরকারি জায়গার জন্য পরিবারটির পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।


তবে প্রশ্ন উঠেছে—এক ইঞ্চি জায়গার মালিকানা না থাকা সেলিম আহমদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবেন? আত্মীয়স্বজন কিংবা প্রতিবেশীরা কতদিন পর্যন্ত ছয় সদস্যের এই পরিবারকে আশ্রয় দিতে পারবেন, সেটিও অনিশ্চিত।


এ অবস্থায় নদীভাঙন ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় পরিবারটির জন্য দ্রুত নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। পাশাপাশি কুশিয়ারা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ডাইকের ভেতরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোর তালিকা করে তাদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে।


এনামুল হক মুন্না

সেক্রেটারি, জকিগঞ্জ প্রেসক্লাব, সিলেট।

© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
channeljaintanews24.com