Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সুনামগঞ্জ রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

শান্তিগঞ্জে দুই শিশুকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ, বাবা গ্রেপ্তার

১৫ আগস্ট ২০২৬ • ১২:০১ পূর্বাহ্ন

শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে দুই সন্তানকে ঘোরানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাদের বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহত দুই শিশুর মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত বাবার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযুক্ত কামরুল জামান প্রকাশ মো. কামরুল মিয়াকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছে।


নিহত দুই শিশু হলো—মোহাদ্দিছ (৭) ও তুলনা আক্তার (৪)। তারা কামরুল জামান ও আফরোজা বেগম দম্পতির দ্বিতীয় ও তৃতীয় সন্তান।


নিহত দুই শিশুর মা আফরোজা বেগম বুধবার (১৩ আগস্ট) দিরাই থানাধীন পেরুয়া মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা ও তার স্বামী অভিযুক্ত কামরুল জামান প্রকাশ মো. কামরুল মিয়ার বিরুদ্ধে শান্তিগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।


এজাহারে যা বলা হয়েছে


স্থানীয়, পারিবারিক ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কামরুল জামান ও আফরোজা বেগমের প্রায় ৯-১০ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের চার সন্তান রয়েছে। কামরুল জামান বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে মসলা বিক্রি করে সংসার চালাতেন।


পারিবারিকভাবে জানা যায়, সন্তানদের শাসন-অনুশাসন নিয়ে কিছুদিন ধরে কামরুল জামানের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মনোমালিন্য চলছিল।


এরই মধ্যে গত ৭ আগস্ট (শুক্রবার) কামরুল জামান কাউকে না জানিয়ে দুই সন্তানকে ঘোরানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় পার হলেও তারা বাড়িতে ফিরে না আসায় স্ত্রী আফরোজা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজন ও আশপাশের এলাকায় তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।


গত ১০ আগস্ট (সোমবার) কামরুল জামান একা বাড়িতে ফিরে এলে পরিবারের সদস্যরা সন্তানদের বিষয়ে জানতে চান। এ সময় তিনি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি সন্তান দুটিকে হত্যার কথা জানান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


পৃথক স্থানে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার


এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত কামরুল জামান গত ৯ আগস্ট (রবিবার) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শান্তিগঞ্জ থানাধীন পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে একটি বাস থেকে নামেন। পরে চার বছরের শিশু তুলনা আক্তারকে পানিতে ফেলে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


এরপর অপর একটি বাসে করে সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন লক্ষনশ্রী ইউনিয়নের গৌবিন্দপুর এলাকায় গিয়ে সাত বছরের শিশু মোহাদ্দিছকেও ঘুমন্ত অবস্থায় পানিতে ফেলে হত্যা করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।


খবর পেয়ে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ গত ১১ আগস্ট (সোমবার) দুপুরে নোয়াগাঁও এলাকার ঘটনাস্থল থেকে শিশু তুলনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরদিন ১২ আগস্ট (মঙ্গলবার) সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ গৌবিন্দপুর এলাকা থেকে শিশু মোহাদ্দিছের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।


নিহত শিশু দুটির মা আফরোজা বেগম সাক্ষীদের উপস্থিতিতে পৃথক ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মৃত ছেলে ও মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।


ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হলে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দুই শিশুর দাফন-কাফন সম্পন্ন করা হয়। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


তদন্তে পুলিশ


শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল্লাহ জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও স্পর্শকাতর। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত দুই শিশু মোহাদ্দিছ (৭) ও তুলনা আক্তার (৪)-কে তাদের বাবা কামরুল জামান প্রকাশ মো. কামরুল মিয়া গত ৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বাড়ি থেকে ঘোরানোর কথা বলে নিয়ে যান। পরবর্তীতে শিশু দুটির মরদেহ পৃথক দুটি স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়।


ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় শিশু দুটির বাবা অভিযুক্ত কামরুল জামান প্রকাশ মো. কামরুল মিয়াকে পুলিশ আটক করেছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


ঘটনার প্রকৃত কারণ, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না এবং এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


এ ঘটনায় নিহত শিশু দুটির মা আফরোজা বেগম বাদী হয়ে শান্তিগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com