Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সিলেট রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

লোডশেডিংয়ের সুযোগে সিলেটে ট্রিপল মার্ডার, সন্দেহে বাবুল গ্রেপ্তার

১২ আগস্ট ২০২৬ • ১১:০৫ অপরাহ্ন

সিলেট।

সিলেট নগরের সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত মিতালী আবাসিক এলাকায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটেছে লোডশেডিংয়ের সুযোগে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় তিনজনকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে বাবুল মিয়া (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


ঘটনার প্রায় সাত ঘণ্টার মাথায় অন্য একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বাবুলকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে আটক করা হয়। বিকেলে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।


সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বাবুল মিয়া মিতালী আবাসিক এলাকার পাশের একটি কলোনিতে বসবাস করতেন।


এসএমপি পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, বাবুল মিয়া পেশায় একজন কসাই। গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক থাকায় ওই বাসায় তার যাতায়াত ছিল। বুধবার সকালে তাহমিনার সম্মতিতে সে বাসায় প্রবেশ করে। পরে একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির জেরে তাহমিনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে বাবুল।


পুলিশ কমিশনার জানান, তাহমিনাকে হত্যার পর সেখানে সুরাইয়া বেগম ও আব্দুস সাত্তারকে দেখতে পেয়ে তাদেরও গলাকেটে হত্যা করে বাবুল। হত্যাকাণ্ডের পর বাড়ির পেছন দিয়ে পালিয়ে যায় সে।


মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে এম এ সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং বাসার গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


এসএমপির মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. মনজুরুল আলম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের গলা কেটে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।


জানা গেছে, নিহত এম এ সাত্তার দম্পতি মিতালী আবাসিক এলাকার প্রথম বাসিন্দা। পেশায় ব্যবসায়ী হলেও আওয়ামী লীগের একজন পুরোনো কর্মী হিসেবে মহল্লায় পরিচিত ছিলেন তিনি। তবে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর তিনি নিষ্ক্রিয় ছিলেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। দুজনই সপরিবারে লন্ডনে বসবাস করেন।


মিতালী আবাসিক এলাকা পুরোপুরি সিসি ক্যামেরার আওতাধীন। ১১১ নম্বর বাসাতেও নিজস্ব সিসি ক্যামেরা ছিল। কিন্তু সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুতের লোডশেডিং থাকায় মহল্লা ও বাসার সিসি ক্যামেরায় ওই সময়ের কোনো দৃশ্য ধরা পড়েনি।


প্রাথমিক তদন্তে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুটি সূত্র বলছে, লোডশেডিংয়ের সুযোগে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকায় কখন লোডশেডিং হয়, সে বিষয়ে নজর রাখা দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে এ সুযোগ কাজে লাগিয়েছে কি না, তা সামনে রেখে তদন্ত চলছে।


তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহল্লার সিকিউরিটি গার্ডের বিল উত্তোলনকারীর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। সিকিউরিটি গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বাসায় দুজন কাজের মেয়ে থাকতেন। তবে অপর কাজের মেয়েটির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।


বাসার নিজস্ব গাড়িচালক পুলিশকে জানিয়েছেন, গত প্রায় এক মাস ধরে নিচতলার ভাড়াটিয়ার সঙ্গে সমস্যা চলছিল। ওই ভাড়াটিয়াকে ছয় মাস ধরে বাসা ছাড়তে বলা হলেও তিনি ছাড়ছিলেন না। গত মাসে ওই ভাড়াটিয়া বাসা ছেড়ে চলে যান। ঘটনার সঙ্গে এ বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


ভাড়াটিয়া বিদায় করার বিষয়ে মহল্লার কমিটির একজন সদস্য বলেন, “জায়গা-জমির ব্যবসা করা ওই ভাড়াটেকে মহল্লার কমিটি বসে বিদায় করেছে। সত্তার সাহেবই মহল্লার কাছে বিচারপ্রার্থী হয়ে বলেছিলেন, আমার বাসা ছাড়ে না, ভাড়াও ঠিকমতো দেয় না।”


হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি তাৎক্ষণিক ব্রিফিংয়ে বলেন, বাসার ওয়ারড্রোব ও আলমারি খোলা ছিল। স্বর্ণসহ দামি জিনিস খোয়া গেছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। এটি চুরি-ডাকাতির ঘটনা কি না, নাকি অন্য কোনো কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে—তা তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি পারিবারিক কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


পুলিশ কমিশনার বলেন, “তিনজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। তবে অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি।” পরে বিকেলে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ।


তিনি আরও বলেন, “সকালে ওই বাসার প্রতিবেশীরা আমাদের জানান, বাড়ির দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে এবং দরজা বন্ধ। এমন খবর পেয়ে পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে যায়। দরজা খুলে তারা আমাদের জানায়। পিবিআই ও সিআইডির ক্রাইম সিন নিয়ে যারা কাজ করেন, তারাও ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করছেন। একটি স্পেশাল টিম গঠন করে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”


ভাড়াটিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী সকালে চিৎকার-চেঁচামেচি শোনা গেছে উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনার বলেন, সে হিসেবে ঘটনাটি সকালে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত জানা যাবে।


পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, “ঘটনাটি ডাকাতি, নাকি এর পেছনে পারিবারিক কোনো শত্রুতা বা পূর্ববিরোধ রয়েছে, সেটিও আমরা তদন্ত করে দেখছি। এখানে একটি দলিলও পাওয়া গেছে। সেটিও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।”


হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ডাকাতির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com