শান্তিগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নিয়োগে ফের প্রশ্ন: এক গ্রামে ৪ জন, দুই ইউনিয়নে ২ সুপারভাইজার—‘কোটা’ নাকি বিশেষ সুবিধা?
শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কার্যক্রমের নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ফলাফল প্রকাশের পরই প্রার্থী বাছাই ও পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একটি অংশ।
প্রকাশিত ফলাফল পর্যালোচনা করে জানা গেছে, জয়কলস ইউনিয়নের জামলাবাজ গ্রাম থেকে চারজন শুমারি কর্মী নিয়োগ পেয়েছেন। অথচ ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রাম থেকে দুইজন করে বা তার চেয়ে কমসংখ্যক প্রার্থী নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। একটি গ্রাম থেকে তুলনামূলক বেশি সংখ্যক প্রার্থী নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের নীতিমালা বা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে সুপারভাইজার নিয়োগের ক্ষেত্রেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে একজন করে সুপারভাইজার নিয়োগের কথা থাকলেও প্রকাশিত তালিকায় পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন থেকে দুইজন এবং জয়কলস ইউনিয়ন থেকেও দুইজনকে সুপারভাইজার হিসেবে রাখা হয়েছে।অন্য ইউনিয়নগুলোতে একজন করে সুপারভাইজার রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ কারণে প্রশ্ন উঠেছে,যদি ইউনিয়নভিত্তিক একজন করে সুপারভাইজার নিয়োগের পরিকল্পনা থাকে, তাহলে পশ্চিম পাগলা ও জয়কলস ইউনিয়নে অতিরিক্ত একজন করে সুপারভাইজার রাখার কারণ কী?অতিরিক্ত সুপারভাইজার নিয়োগের ক্ষেত্রে কি জনসংখ্যা, পরিবারের সংখ্যা, কাজের পরিমাণ বা অন্য কোনো প্রশাসনিক মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়েছে—তা নিয়েও স্পষ্টতা চান স্থানীয়রা।
অন্যদিকে,পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের সুপারভাইজারদের মধ্যে পাগলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে কর্মরত একজন শিক্ষক রয়েছেন বলে জানা গেছে। একজন কর্মরত শিক্ষক একই সময়ে শুমারি কার্যক্রমের সুপারভাইজারের দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে কি না—এ প্রশ্নও উঠেছে।
এর আগে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কর্মী নিয়োগ নিয়ে দলীয় প্রভাব ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফলাফল প্রকাশের পর প্রার্থী বাছাই ও পদ বণ্টনের কিছু বিষয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দেওয়ায় আগের অভিযোগগুলোও আবার আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রার্থী বাছাইয়ের নীতিমালা, মেধাক্রম, ইউনিয়ন ও গ্রামভিত্তিক পদসংখ্যা এবং সুপারভাইজার নিয়োগের মানদণ্ড প্রকাশ করা প্রয়োজন।
তবে প্রকাশিত তালিকায় কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।তাই অভিযোগগুলোর বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ফ্যামিলি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচির শুমারি কার্যক্রমে নিয়োগ নিয়ে যাতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা বিতর্ক সৃষ্টি না হয়, সেজন্য নিয়োগের পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া ও বাছাইয়ের ভিত্তি জনসম্মুখে পরিষ্কার করার দাবি উঠেছে।