কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়ম, দলীয় পক্ষপাতিত্ব, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবু ছাঈদ মিয়ার অপসারণ এবং প্রকাশিত নিয়োগ তালিকা বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের দাবি জানিয়েছে সাবেক বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের একাংশ।
এ দাবিতে রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে স্লোগান দেন এবং বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে যথাযথ স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়নি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
তবে আন্দোলনকারীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবু ছাঈদ মিয়া।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি, মূলত তাদের মাধ্যমেই এই আন্দোলন করা হচ্ছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তা জানান, তথ্য সংগ্রহকারী পদে মোট ৫৭৪ জন আবেদন করেছিলেন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫৬ জন। অন্যদিকে সুপারভাইজার পদে আবেদন করেন ৫৮ জন এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৬ জন। প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য একজন করে সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা গ্রহণের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগও নাকচ করে তিনি বলেন, “আমি কোনো পরীক্ষা নিইনি।” পরীক্ষার সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, আইসিটি কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পিআইইউ, পরিসংখ্যান বিভাগ এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার প্রয়োজন না থাকলে ৫৭৪ জন আবেদনকারীর সবাইকে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যেত। যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে আন্দোলন ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পর কোম্পানীগঞ্জে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।