Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি আইন আদালত রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

সিলেটে ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলা: প্রধান আসামি জাকিরের মৃত্যুদণ্ড, দুই সহোদর খালাস

০৬ আগস্ট ২০২৬ • ১০:৪৩ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট:


সিলেটের বহুল আলোচিত চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মো. জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে এ মামলায় লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত জাকিরের দুই সহোদর জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের শিশু সহিংসতা প্রতিরোধ আদালতের বিচারক আবু ওবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন। ফাহিমার ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনার মাত্র তিন মাসের মাথায় এই রায় প্রদান করা হলো।


রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বদরুর রহমান বাবর বলেন, মামলার দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এতে আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।


তিনি আরও জানান, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবেন।


অন্যদিকে, মামলার দুই আসামি খালাস পাওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত ফাহিমার পরিবার।


ফাহিমার বাবা রাইসুল হক বলেন, “লাশ গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা খালাস পেয়ে গেছে। তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি জাকিরের মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানাই।” তিনি জানান, দুই আসামির খালাসের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।


মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেন সিগারেট এনে দেওয়ার অজুহাতে শিশু ফাহিমাকে নিজের ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে ধরা পড়ার ভয়ে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে দুই দিন নিজ ঘরের একটি সুটকেসে লুকিয়ে রেখে বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।


পরবর্তীতে ৮ মে জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ জাকিরকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে জাকির নিজের অপরাধ স্বীকার করার পর ঘটনার ৩৩ দিনের মাথায় পুলিশ তার ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে।


অভিযোগপত্রে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়। আর লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে।


নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মো. জাকির হোসেন (৩০) একই গ্রামের পশ্চিমপাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।


উল্লেখ্য, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। দুই দিন পর, ৮ মে রাতে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে জাকির ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। পরে ১ জুলাই বিচারকাজ শুরু হওয়ার পর প্রায় এক মাসের দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এই বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com