Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সিলেট রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

বালাগঞ্জে স্কুলে দুপ্রকের অনুষ্ঠান, ছুটির পরও আটকে রাখা হলো শিক্ষার্থীদের

৩০ জুলাই ২০২৬ • ১০:২৩ অপরাহ্ন

বালাগঞ্জ প্রতিনিধি:

সিলেটের বালাগঞ্জ সরকারি দ্বারকানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুপ্রক) ব্যানারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক। সংসদ সদস্যের আগমন উপলক্ষে নির্ধারিত ছুটির সময়ের পরও শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যালয়ে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে বাড়ি ফিরতে বিলম্ব হওয়ায় অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে ভিড় করেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


তবে শিক্ষার্থীদের ছুটির পরও বিদ্যালয়ে আটকে রাখার বিষয়টি জানতে পেরে চরম অসন্তোষ ও বিরাগ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য এম এ মালিক। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে উদ্বুদ্ধ করেন এবং সংসদ অধিবেশন দেখাবেন বলে তাদের উৎসাহিত করেন।


সরেজমিনে দেখা যায়, এমপি এম এ মালিকের আগমন উপলক্ষে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম ছুটির ঘণ্টা বাজার পরও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে আটকে রাখেন। কোনো পূর্বঘোষণা বা শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে আটকে রাখায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।


ষষ্ঠ শ্রেণি ও অন্যান্য শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তাদের বলা হয়েছিল সংসদ সদস্য বিকেল সাড়ে ৩টায় বিদ্যালয়ে আসবেন। একই সময়ে তাদের ছুটির ঘণ্টাও হয়। ছুটির পর অনেক সহপাঠী বাড়ির উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় শিক্ষকেরা তাদের বাধা দেন। কিন্তু সংসদ সদস্য বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিদ্যালয়ে আসেন। পরে তিনি আটকে রাখা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করেননি বলেও জানায় শিক্ষার্থীরা।


শিক্ষার্থীরা আরও বলে, ‘আমাদের ছুটির সময় হয়ে যাওয়ার পরও স্যাররা আমাদের ছুটি দিচ্ছিলেন না। আমরা সকালে খেয়ে স্কুলে এসেছি। দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় বাড়ি ফিরতে দেরি হয়েছে।’


এদিকে, অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্কুল ছুটির পরও শিক্ষার্থীদের আটকে রাখার বিষয়ে বালাগঞ্জ সরকারি দ্বারকানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ইউএনও স্যারের মৌখিক নির্দেশনায় অনুষ্ঠানের জন্য তাদেরকে আটকে রাখা হয়।’


এ বিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা দেবনাথ বলেন, ‘বিষয়টি খুবই সিম্পল। এখানে বিতর্ক প্রতিযোগিতার জন্য কিছু শিক্ষার্থীকে রাখা হয়েছিল। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে রাখা হয়েছিল, সেটা আমার জানা নেই।’


তবে এই অনুষ্ঠানের বিতর্ক প্রতিযোগিতার জন্য শুধুমাত্র স্কাউটের অন্তর্ভুক্ত শিক্ষার্থীদের রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে। ওই শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানস্থলেও উপস্থিত ছিল।


এদিকে, বিদ্যালয় আঙ্গিনায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অনুষ্ঠানে আগতদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।


শিক্ষার্থীদের ছুটির পরও বিদ্যালয়ে আটকে রাখার বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দেয়। বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় কয়েকজন অভিভাবক বিদ্যালয়ে এসে ভিড় করেন এবং বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com