Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
channeljaintanews24.com
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন
channeljaintanews24@gmail.com

সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
🕒 সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন

পিলখানা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত কথিত ‘গণহত্যা, গুম ও খুনের’ ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’ ও ‘রাষ্ট্র সংস্কার ফোরাম’ নামে দুটি সংগঠন অভিযোগে দাবি করেছে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা অবস্থায় তারা ‘সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটি’ (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) বহন করেন। অভিযোগ তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও গ্রেপ্তারের আবেদনও জানানো হয়েছে।


রোববার বাংলাদেশ আজাদ পার্টির প্রধান সংগঠক বোরহান মাহমুদ এবং রাষ্ট্র সংস্কার ফোরামের সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে পৃথক অভিযোগ জমা দেন।


রাষ্ট্রপতিদের দায়িত্বকাল

আবদুল হামিদ ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ শপথ নিয়ে টানা দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তার উত্তরসূরি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। তবে পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই গত শুক্রবার তিনি পদত্যাগ করেন।

অভিযোগের পর আইনি প্রক্রিয়া


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম জানান, কোনো অভিযোগ জমা পড়লে প্রথমে তা গ্রহণ করে নিবন্ধন করা হয়। এরপর তদন্তের জন্য তদন্ত সংস্থায় পাঠানো হয়। তদন্ত সংস্থা অভিযোগ তদন্তযোগ্য মনে করলে সেটি নিবন্ধন করে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগ দাখিল হলেই কাউকে অভিযুক্ত বা আসামি বলা যায় না। তদন্ত শুরু হওয়ার পরই সেই প্রক্রিয়া কার্যকর হয়। বর্তমান অভিযোগগুলো তদন্ত সংস্থায় পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।


অভিযোগকারীদের বক্তব্য

বাংলাদেশ আজাদ পার্টির প্রধান সংগঠক বোরহান মাহমুদ বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড (জুডিশিয়াল কিলিং), ‘আয়নাঘর’সহ বিভিন্ন ঘটনায় রাষ্ট্রপতিরা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায় এড়াতে পারেন না। তার দাবি, তৎকালীন সরকারকে তারা সমর্থন দিয়েছেন এবং এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।


আজাদ পার্টির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান বলেন, তিন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা থাকলেও তারা গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কোনো উদ্যোগ নেননি। তার মতে, অন্তত পদত্যাগের মাধ্যমে তারা প্রতিবাদ জানাতে পারতেন।


রাষ্ট্র সংস্কার ফোরামের অভিযোগ

রাষ্ট্র সংস্কার ফোরাম জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনের সময় সংঘটিত কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্তের জন্য পৃথক আবেদন করেছে।


সংগঠনটির সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস বলেন, তারা দুটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের আবেদন করেছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রসিকিউশন আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে তারা আশা করছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি কোনো পদক্ষেপ নেননি এবং প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গুলি বা সহিংসতা বন্ধের কোনো প্রকাশ্য নির্দেশও দেননি।

এছাড়া শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে ২০২৪ সালের নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিভিন্ন সহিংস ঘটনার সঙ্গে মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

ছবি
channeljaintanews24.com
logo
ভিজিট করুন
২৭.০৭.২০২৬
© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
channeljaintanews24.com