Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সুনামগঞ্জ রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষার অভিযোগ: জগন্নাথপুরে কুশিয়ারা নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন, বাড়ছে ভাঙনের শঙ্কা

২১ জুলাই ২০২৬ • ০৭:৪৭ অপরাহ্ন

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ও পাইলগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কুশিয়ারা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে এবং জনপদ হুমকির মুখে পড়ছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর, খানপুর, নতুন কসবাসহ কুশিয়ারা নদী-সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও ভাঙনকবলিত স্থান থেকে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। এতে নদীর তীরবর্তী বসতি, কৃষিজমি ও অবকাঠামো আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।


অভিযোগ রয়েছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে মা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের অলৈতলী ও খানপুর মৌজার অংশে রাতের আঁধারে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে আসছে।


এলাকাবাসীর ভাষ্য, অপরিকল্পিত ও পরিবেশবিধি উপেক্ষা করে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে পাইলগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর, পূর্ব জালালপুর, খানপুর, নতুন কসবাসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।


এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর এলাকাবাসীর পক্ষে জালালপুর গ্রামের জাহির আলী হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সুনামগঞ্জ এবং পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটকে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালতের সেই নির্দেশনা এখনো কার্যকর হয়নি।


এদিকে চলতি বছরের ২১ মে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুহসিন উদ্দীনের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কুশিয়ারা নদীর জগন্নাথপুর উপজেলার অংশে কোনো অনুমোদিত বালুমহাল নেই।


এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, মা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পাইলগাঁও ইউনিয়নের তপশিলভুক্ত নির্ধারিত এলাকায় বালু উত্তোলনের অনুমোদন রয়েছে। তবে তপশিলভুক্ত এলাকার বাইরে অন্য কোনো স্থান থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।


এদিকে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং ভাঙনকবলিত এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com