বালাগঞ্জ প্রতিনিধি |
সিলেটের বালাগঞ্জে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি ড্রেন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন ১৮শ মিটার দীর্ঘ এই ড্রেন নির্মাণে প্রাক্কলন অনুযায়ী রড ব্যবহার না করা, বালু ও পাথরের পরিবর্তে মাটিযুক্ত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, বৃষ্টির মধ্যে কাদা-পানির ওপর ঢালাই এবং ড্রেনের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এসব ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পের শুরু থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ড্রেনের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে তার চারপাশ দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে। এতে সামান্য ময়লা-আবর্জনা জমলেই পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে এবং কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। ফলে সরকারের কোটি টাকার এই প্রকল্প কার্যকারিতা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাইট ইঞ্জিনিয়ারকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ত্রুটিপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কখনো ইঞ্জিনিয়ারের উপস্থিতিতে, আবার কখনো তার অনুপস্থিতিতেই নির্মাণকাজ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাও রহস্যজনক কারণে দৃশ্যমান অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
নির্মাণকাজে রড কম ব্যবহার, নিম্নমানের উপকরণ প্রয়োগ এবং বৃষ্টির মধ্যেই ঢালাইয়ের মতো গুরুতর অভিযোগে স্থানীয়রা প্রকল্পের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আবু তাহের বলেন, “আমি এই সাইটে নতুন এসেছি। এখানে আগে যেভাবে কাজ চলছিল, আমি ঠিক সেই নিয়মেই কাজ করে যাচ্ছি।” তবে অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নূর আলী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোস্তাক আহমদ বক্তব্য না দিয়ে প্রতিবেদককে পরে দেখা করার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী রেদওয়ানুল হাসান রড কম ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর কাজটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটির অবস্থান পরিবর্তন করে পরে কাজ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” তবে অন্যান্য অনিয়মের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আজমীর শরীফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়া কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। কোথাও কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে এলাকাবাসীও কাজ বন্ধ করে দিতে পারেন।”
জানা গেছে, বালাগঞ্জ বাজারের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে বালাগঞ্জ-তাজপুর সড়কের পাশে প্রায় ১৮শ মিটার দীর্ঘ ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটিরও বেশি টাকা।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সব ধরনের অনিয়ম বন্ধ, প্রাক্কলন অনুযায়ী রড ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত, ড্রেনের মাঝখানে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ করে পুনরায় মানসম্মতভাবে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।
পাশাপাশি তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বালাগঞ্জ প্রতিনিধি |
সিলেটের বালাগঞ্জে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি ড্রেন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন ১৮শ মিটার দীর্ঘ এই ড্রেন নির্মাণে প্রাক্কলন অনুযায়ী রড ব্যবহার না করা, বালু ও পাথরের পরিবর্তে মাটিযুক্ত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, বৃষ্টির মধ্যে কাদা-পানির ওপর ঢালাই এবং ড্রেনের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এসব ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পের শুরু থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ড্রেনের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে তার চারপাশ দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে। এতে সামান্য ময়লা-আবর্জনা জমলেই পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে এবং কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। ফলে সরকারের কোটি টাকার এই প্রকল্প কার্যকারিতা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাইট ইঞ্জিনিয়ারকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ত্রুটিপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কখনো ইঞ্জিনিয়ারের উপস্থিতিতে, আবার কখনো তার অনুপস্থিতিতেই নির্মাণকাজ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাও রহস্যজনক কারণে দৃশ্যমান অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
নির্মাণকাজে রড কম ব্যবহার, নিম্নমানের উপকরণ প্রয়োগ এবং বৃষ্টির মধ্যেই ঢালাইয়ের মতো গুরুতর অভিযোগে স্থানীয়রা প্রকল্পের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আবু তাহের বলেন, “আমি এই সাইটে নতুন এসেছি। এখানে আগে যেভাবে কাজ চলছিল, আমি ঠিক সেই নিয়মেই কাজ করে যাচ্ছি।” তবে অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নূর আলী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোস্তাক আহমদ বক্তব্য না দিয়ে প্রতিবেদককে পরে দেখা করার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী রেদওয়ানুল হাসান রড কম ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর কাজটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটির অবস্থান পরিবর্তন করে পরে কাজ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” তবে অন্যান্য অনিয়মের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আজমীর শরীফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়া কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। কোথাও কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে এলাকাবাসীও কাজ বন্ধ করে দিতে পারেন।”
জানা গেছে, বালাগঞ্জ বাজারের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে বালাগঞ্জ-তাজপুর সড়কের পাশে প্রায় ১৮শ মিটার দীর্ঘ ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটিরও বেশি টাকা।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সব ধরনের অনিয়ম বন্ধ, প্রাক্কলন অনুযায়ী রড ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত, ড্রেনের মাঝখানে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ করে পুনরায় মানসম্মতভাবে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।
পাশাপাশি তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।