Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সিলেট রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
গোয়াইনঘাটে নামজারির নামে ৬০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ভূমি সহকারী অসিম চন্দের বিরুদ্ধে এডিসি (রাজস্ব) বরাবর লিখিত অভিযোগ

নামজারির নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ: গোয়াইনঘাটের ভূমি সহকারীর বিরুদ্ধে এডিসির কাছে অভিযোগ

১২ জুলাই ২০২৬ • ০১:২৫ পূর্বাহ্ন

রুবেল আহমদ গোয়াইনঘাট থেকে। 

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা ভূমি অফিসের নামজারি (জমা-খারিজ) সহকারী অসিম চন্দের বিরুদ্ধে নামজারির কাজ করে দেওয়ার নামে ঘুষ গ্রহণ, অর্থ আত্মসাৎ এবং মূল দলিল আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলার নিয়াগুল গ্রামের বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।


অভিযোগের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর উপ-পরিচালক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।


লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, মো. দেলোয়ার হোসেন তার নিজ নামে খরিদা দুই শতক বাড়ির জমিসহ তার মামা আব্দুস সালাম, চাচা শ্বশুর জয়নাল আবেদীন এবং মামাতো ভাই মুনজুর আলমের নামে মোট চারটি নামজারির আবেদন করেন। আবেদনগুলোর মামলা নম্বর যথাক্রমে—৪৬/২০২৪-২৫, ৫২৮/২০২৪-২৫, ৫৭৮/২০২৪-২৫ এবং ৪৪৩৪/২০২৩-২৪।


অভিযোগ অনুযায়ী, আবেদনগুলো অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় মূল দলিল জমা দেওয়ার পাশাপাশি নামজারি সহকারী অসিম চন্দকে প্রথমে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে জমির শ্রেণি ‘বাড়ি’ উল্লেখ করে আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করা হলে ভুক্তভোগী মোট ৬০ হাজার টাকা প্রদান করেন।


ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এত টাকা দেওয়ার পরও নামজারির কাজ সম্পন্ন না করে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে দলিলে ভুল রয়েছে দাবি করে আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন অসিম চন্দ। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চারটি নামজারির আবেদনই বাতিল করে দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, টাকা না দেওয়ার কারণেই আবেদনগুলো বাতিল করা হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়।


মো. দেলোয়ার হোসেন আরও অভিযোগ করেন, আবেদন বাতিল হওয়ার পর তিনি ৬০ হাজার টাকা ও জমা দেওয়া মূল দলিল ফেরত চাইলে তাকে দিনের পর দিন ঘুরানো হয়। এমনকি গত ২ মার্চ গভীর রাত ১টা পর্যন্ত অফিসের বারান্দায় বসিয়ে রাখার পরও টাকা ও দলিল ফেরত দেওয়া হয়নি। বরং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের ভয় দেখিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে জানাতে চাইলে অসিম চন্দ তাকে অফিসে প্রবেশে বাধা দেন এবং বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানির হুমকি দেন।


ভুক্তভোগী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “অসিম চন্দ দীর্ঘদিন ধরে নামজারির নামে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে টাকা আদায় করে আসছেন বলে আমি মনে করি। আমি আমার আত্মসাৎকৃত ৬০ হাজার টাকা ও মূল দলিল ফেরত চাই। একই সঙ্গে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।”


এদিকে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলও অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


অভিযুক্তের বক্তব্য:

প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত এ বিষয়ে ভূমি সহকারী অসিম চন্দের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com