Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সিলেট রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর সীমান্তে মানব পাচার নেটওয়ার্ক, কঠোর ব্যবস্থা চান স্থানীয়রা

গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর সীমান্তে মানব পাচার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: আতঙ্কে এলাকাবাসী, দ্রুত অভিযানের দাবি

১২ জুলাই ২০২৬ • ০১:১৪ পূর্বাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার:

সিলেটের গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকাকে কেন্দ্র করে একটি সুসংগঠিত মানব পাচার সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় মানুষকে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারে প্ররোচিত করা, বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া এবং বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এই কর্মকাণ্ড শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং সীমান্ত এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন ও নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ অনুযায়ী, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্তজুড়ে সক্রিয় এই নেটওয়ার্কের নেতৃত্বে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে সাব্বির আহমদ ও কাউসার আহমদের বিরুদ্ধে। তাদের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন— সাব্বির (২৯), স্থায়ী ঠিকানা সুনামগঞ্জ, বর্তমান ঠিকানা মামার দোকান এলাকা; লাল মিয়া (৩০), পিতা আমিন আলী, গ্রাম দক্ষিণ প্রান্তমাই; জুয়েল রানা (৩০), পিতা শাহজাহান, গ্রাম উত্তর প্রতাপপুর; কাউসার (২৮) ও আফসার (২৬), উভয়ের পিতা জয়নুদ্দিন, গ্রাম উত্তর প্রতাপপুর; এনাম আহমদ (২৮), পিতা আব্দুল মালেক, গ্রাম ডিবির হাওর; ইউসুফ আহমদ (২৬), পিতা নেনা মিয়া, গ্রাম ডিবির হাওর এবং জুবেল আহমদ (২৫), পিতার নাম অজ্ঞাত, গ্রাম ডিবির হাওর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গোয়াইনঘাটের পানতুমাই, বাদেশ্বর, হাজিপুর, লামাপুঞ্জি, লন্ডনী বাজার, সংগ্রামপুঞ্জি, তামাবিল, নলঝুরি এবং জৈন্তাপুরের ডিবির হাওর সীমান্তকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচারের অবৈধ রুট পরিচালনা করা হচ্ছে। সহজ-সরল মানুষকে বিদেশে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে কিংবা অর্থের প্রলোভন দিয়ে সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে অপহরণ ও জিম্মি করার ঘটনাও ঘটেছে।

অভিযুক্তদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলে দাবি স্থানীয়দের। ফলে সীমান্তবর্তী জনপদে এক ধরনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

এ অবস্থায় এলাকাবাসী মানব পাচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, চক্রের গোপন আস্তানা শনাক্ত করে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা, অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, অবৈধ সীমান্ত রুটগুলো বন্ধ করা এবং বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল আরও জোরদার করা হোক।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, “আমরা আর আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করতে চাই না। মানব পাচারকারীরা দেশ ও জাতির শত্রু। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।”

অভিযুক্তদের বক্তব্য

প্রতিবেদন প্রকাশের আগে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সাব্বির আহমদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার এক বন্ধু ফোন রিসিভ করে জানান, সাব্বির সেখানে নেই। কাউসার আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “আমি আগে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলাম, এখন আর করি না।”

এনাম আহমদ বলেন, “এরকম বিষয় নিয়ে আমাকে কল দেবেন না, আমরা কোনো রকমে চলতেছি।”

ইউসুফ আহমদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি শুনেই কোনো বক্তব্য না দিয়ে কল কেটে দেন। লাল মিয়ার নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। অপর অভিযুক্তদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

সীমান্তবর্তী জনগণের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিজিবি ও প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com