Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সিলেট রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

সিলেটে আন্তর্জাতিক হাসপাতাল গড়তে ৬ একর জমি ও ৫০ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা ফাহিম আল চৌধুরীর

১২ জুলাই ২০২৬ • ০১:০২ পূর্বাহ্ন

সিলেট প্রতিনিধি:

সিলেটে একটি বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিজের মালিকানাধীন ৬ একর জমি দান এবং ব্যক্তিগতভাবে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবী, শিক্ষানুরাগী ও দানশীল ফাহিম আল চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি প্রস্তাব করেছেন, আইনগতভাবে বৈধ ও সর্বসম্মত কাঠামো গড়ে উঠলে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে মানুষের দান করা অর্থের একটি অংশ মানবকল্যাণে, বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ও হাসপাতালের উন্নয়নে ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।


সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এ প্রস্তাব ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।


ফাহিম আল চৌধুরী বলেন, সিলেটের মানুষ যদি দল-মত, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার স্বার্থে একত্রিত হতে পারেন, তবে এমন একটি ইতিহাস সৃষ্টি সম্ভব, যা আগামী প্রজন্মের জন্য মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


তিনি জানান, সিলেট বাইপাস সংলগ্ন তাঁর মালিকানাধীন ৬ একর জমি সম্পূর্ণভাবে হাসপাতালের জন্য দান করতে প্রস্তুত। পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের অঙ্গীকারও করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো ব্যক্তির হাসপাতাল হবে না; বরং সমগ্র সিলেটবাসীর হাসপাতাল হবে, যেখানে ধনী-গরিব, শহর-গ্রাম এবং সব ধর্মের মানুষ সমান মর্যাদায় চিকিৎসাসেবা পাবেন।


মাজারের দানের অর্থ ব্যবহারের প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সম্মানিত আলেম-ওলামা, আইনজ্ঞ, চিকিৎসক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সর্বোপরি সিলেটবাসী যদি আইনগতভাবে বৈধ ও সর্বসম্মত কোনো কাঠামো নির্ধারণ করেন, তাহলে মাজারে মানুষের দান করা অর্থের একটি অংশ মানবকল্যাণে ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।


তিনি একটি সম্ভাব্য আর্থিক হিসাবও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ হলে বছরে প্রায় ৬ কোটি, ৫ বছরে প্রায় ৩০ কোটি এবং ১০ বছরে প্রায় ৬০ কোটি টাকা হাসপাতালের উন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, ক্যান্সার চিকিৎসা, হার্ট ইনস্টিটিউট, কিডনি ডায়ালাইসিস, শিশু হাসপাতাল, মাতৃসেবা, গবেষণা, নতুন ভবন নির্মাণ এবং অসহায় মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসায় ব্যয় করা সম্ভব হতে পারে।


স্বপ্নের হাসপাতাল সম্পর্কে তিনি বলেন, এখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনার পাশাপাশি বাংলাদেশের সেরা চিকিৎসকদের সমন্বয়ে আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপারেশন, দরিদ্র মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা, রোগীর স্বজনদের জন্য সম্মানজনক বিনামূল্যে আবাসনের ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা গবেষণা ও প্রশিক্ষণের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।


তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ সিলেটে আসবেন কেউ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে, কেউ চিকিৎসার জন্য, আবার কেউ একই সফরে দুটি উদ্দেশ্যই পূরণ করবেন। এতে সিলেট শুধু আধ্যাত্মিকতার নগরী নয়, মানবসেবার রাজধানী হিসেবেও পরিচিতি লাভ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


হাসপাতাল পরিচালনা প্রসঙ্গে ফাহিম আল চৌধুরী জানান, তিনি নিজে কোনো পদ, ক্ষমতা বা নিয়ন্ত্রণ চান না। হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের নেতৃত্বে থাকবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত সম্মানিত বিচারপতি। তাঁর সঙ্গে থাকবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, প্রখ্যাত চিকিৎসক, আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, আইনজ্ঞ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।


তিনি আরও ঘোষণা দেন, কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, দলীয় পদধারী বা রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারবেন না।


স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি অর্থ ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হবে, প্রতিটি ব্যয় নিরীক্ষার আওতায় থাকবে এবং সব হিসাব জনসম্মুখে উন্মুক্ত রাখা হবে, যাতে মানুষের দান করা অর্থের ব্যবহারে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।


স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় দুর্নীতিবাজদের উদ্দেশে মন্তব্য করেন, জনগণের অর্থ লুটপাট করে যাদের ‘ভুঁড়ি’ বেড়ে গেছে, তাদের জন্যও হাসপাতালে ‘বিনামূল্যে পেট নিয়ন্ত্রণ চিকিৎসার’ ব্যবস্থা থাকবে।


ফাহিম আল চৌধুরীর এই প্রস্তাব ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মাজারের দানের অর্থ মানবকল্যাণে ব্যবহারের প্রস্তাবটি বিভিন্ন মহলে ইতিবাচক ও ভিন্নমুখী মতামতের সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com