মো. জুনেদ আহমদ।
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিশ্চিন্ত গ্রামের প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সংস্কার ও উন্নয়নের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন অনেকটাই চলাচলের অনুপযোগী। স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়ন বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে বছরের পর বছর সড়কটির উন্নয়ন হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনকে উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বাম পাশ দিয়ে নিশ্চিন্ত গ্রামের যে প্রধান সড়কটি গেছে, তার বড় একটি অংশ এখনও কাঁচা রয়েছে। খর্দ্দাপাড়া এলাকার শিপু ড্রাইভারের বাড়ির পাশের তিমুখী রাস্তা থেকে বুলবুল ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ি পর্যন্ত আরসিসি ঢালাই করা হলেও এরপর বুলবুল ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ি থেকে ওয়ার্ড সদস্য মাহমুদুল হাসান বাচ্চু মেম্বারের বাড়ির পাশ পর্যন্ত কিছু কাজ শুরু করে তা অসমাপ্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
এ নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন, সড়কের একটি অংশে উন্নয়নকাজ শেষ হলেও পুরো সড়কের কাজ কেন সম্পন্ন করা হয়নি। তাদের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙন ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক ব্যবহার করছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কাদামাটি ও জলাবদ্ধতার কারণে রোগী হাসপাতালে নেওয়া, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে এই সড়কে একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটেছে।
একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের আগে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্বাচনের পর আর কেউ সড়কটির খোঁজ নেননি। বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস মিলেছে, কিন্তু বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নিশ্চিন্ত গ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। তাদের মতে, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে সড়কটির জন্য কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল কি না, বরাদ্দকৃত অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি কী—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর দাবি, উন্নয়ন বরাদ্দ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, কোনো প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছিল কি না এবং হয়ে থাকলে তা কেন সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য মাহমুদুল হাসান বাচ্চুর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
এ বিষয়ে ওয়ার্ড সদস্য মাহমুদুল হাসান বাচ্চু এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সড়কটির বর্তমান অবস্থা তদন্ত, উন্নয়ন বরাদ্দের হিসাব পর্যালোচনা এবং দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
নিশ্চিন্ত গ্রামের মানুষের একটাই প্রশ্ন—উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আর কতদিন, একটি নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য সড়ক পেতে তাদের অপেক্ষা আর কত বছর?
মো. জুনেদ আহমদ।
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিশ্চিন্ত গ্রামের প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সংস্কার ও উন্নয়নের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন অনেকটাই চলাচলের অনুপযোগী। স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়ন বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে বছরের পর বছর সড়কটির উন্নয়ন হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনকে উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বাম পাশ দিয়ে নিশ্চিন্ত গ্রামের যে প্রধান সড়কটি গেছে, তার বড় একটি অংশ এখনও কাঁচা রয়েছে। খর্দ্দাপাড়া এলাকার শিপু ড্রাইভারের বাড়ির পাশের তিমুখী রাস্তা থেকে বুলবুল ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ি পর্যন্ত আরসিসি ঢালাই করা হলেও এরপর বুলবুল ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ি থেকে ওয়ার্ড সদস্য মাহমুদুল হাসান বাচ্চু মেম্বারের বাড়ির পাশ পর্যন্ত কিছু কাজ শুরু করে তা অসমাপ্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
এ নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন, সড়কের একটি অংশে উন্নয়নকাজ শেষ হলেও পুরো সড়কের কাজ কেন সম্পন্ন করা হয়নি। তাদের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙন ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক ব্যবহার করছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কাদামাটি ও জলাবদ্ধতার কারণে রোগী হাসপাতালে নেওয়া, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে এই সড়কে একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটেছে।
একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের আগে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্বাচনের পর আর কেউ সড়কটির খোঁজ নেননি। বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস মিলেছে, কিন্তু বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নিশ্চিন্ত গ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। তাদের মতে, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে সড়কটির জন্য কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল কি না, বরাদ্দকৃত অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি কী—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর দাবি, উন্নয়ন বরাদ্দ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, কোনো প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছিল কি না এবং হয়ে থাকলে তা কেন সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য মাহমুদুল হাসান বাচ্চুর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
এ বিষয়ে ওয়ার্ড সদস্য মাহমুদুল হাসান বাচ্চু এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সড়কটির বর্তমান অবস্থা তদন্ত, উন্নয়ন বরাদ্দের হিসাব পর্যালোচনা এবং দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
নিশ্চিন্ত গ্রামের মানুষের একটাই প্রশ্ন—উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আর কতদিন, একটি নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য সড়ক পেতে তাদের অপেক্ষা আর কত বছর?