Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
০৩ জুলাই ২০২৬ · ১০:৩০ অপরাহ্ন

বাংলাদেশি জনশক্তিকে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তুলতে কাজ করবে সুইজারল্যান্ড: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সুইস রাষ্ট্রদূত

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
ছবি

 ঢাকা, ২৮ জুন ২০২৬।


বাংলাদেশি জনশক্তিকে আরও দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে সুইজারল্যান্ড। একই সঙ্গে নিরাপদ অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রত্যাবর্তনকারী কর্মীদের পুনর্বাসনেও দেশটি বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছে।


রোববার (২৮ জুন) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলির সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয় উঠে আসে।


বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ড ধারাবাহিকভাবে সহযোগিতা করে আসছে।


মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এ সংকটের কারণে অনেক বাংলাদেশি কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই প্রত্যাবর্তনকারী কর্মীদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতার প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


মন্ত্রী 'ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম' (OEP) উন্নয়নে সুইজারল্যান্ডের কারিগরি সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করেছে। তবে OEP-কে আরও শক্তিশালী করতে জনবল চাহিদা ব্যবস্থাপনা, মেডিকেল সেন্টার সংযুক্তকরণ, জব পোর্টাল উন্নয়ন এবং একটি ডেডিকেটেড মোবাইল অ্যাপ চালুর ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ডের কর্মমুখী ও কারিগরি সহযোগিতা প্রয়োজন।


শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রমিক কল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের কারিগরি শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের বৈশ্বিক সুনামের কথা উল্লেখ করে তিনি এ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।


তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। সুইজারল্যান্ডের স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, হসপিটালিটি ও নির্মাণ খাতের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য সুইজারল্যান্ডে বৃত্তির সুযোগ বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।


বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, সুইজারল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশি ডায়াসপোরা কমিউনিটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। দুই দেশের সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং বিভিন্ন খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে এই কমিউনিটিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে।


জবাবে সুইস রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে গড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বিদেশফেরত বাংলাদেশি কর্মীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড একটি বড় সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি আরও বেশি কার্যকর। তিনি আশ্বস্ত করেন, সুইজারল্যান্ড তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জনশক্তিকে দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।


সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, সুইজারল্যান্ডের মাইগ্রেশন অ্যান্ড প্রটেকশনের আঞ্চলিক উপদেষ্টা লিসা গ্রেমিঙ্গার, আঞ্চলিক প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপক নাজিয়া হায়দার এবং সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 ঢাকা, ২৮ জুন ২০২৬।


বাংলাদেশি জনশক্তিকে আরও দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে সুইজারল্যান্ড। একই সঙ্গে নিরাপদ অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রত্যাবর্তনকারী কর্মীদের পুনর্বাসনেও দেশটি বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছে।


রোববার (২৮ জুন) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলির সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয় উঠে আসে।


বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ড ধারাবাহিকভাবে সহযোগিতা করে আসছে।


মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এ সংকটের কারণে অনেক বাংলাদেশি কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই প্রত্যাবর্তনকারী কর্মীদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতার প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


মন্ত্রী 'ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম' (OEP) উন্নয়নে সুইজারল্যান্ডের কারিগরি সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করেছে। তবে OEP-কে আরও শক্তিশালী করতে জনবল চাহিদা ব্যবস্থাপনা, মেডিকেল সেন্টার সংযুক্তকরণ, জব পোর্টাল উন্নয়ন এবং একটি ডেডিকেটেড মোবাইল অ্যাপ চালুর ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ডের কর্মমুখী ও কারিগরি সহযোগিতা প্রয়োজন।


শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রমিক কল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের কারিগরি শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের বৈশ্বিক সুনামের কথা উল্লেখ করে তিনি এ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।


তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। সুইজারল্যান্ডের স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, হসপিটালিটি ও নির্মাণ খাতের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য সুইজারল্যান্ডে বৃত্তির সুযোগ বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।


বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, সুইজারল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশি ডায়াসপোরা কমিউনিটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। দুই দেশের সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং বিভিন্ন খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে এই কমিউনিটিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে।


জবাবে সুইস রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে গড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বিদেশফেরত বাংলাদেশি কর্মীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড একটি বড় সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি আরও বেশি কার্যকর। তিনি আশ্বস্ত করেন, সুইজারল্যান্ড তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জনশক্তিকে দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।


সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, সুইজারল্যান্ডের মাইগ্রেশন অ্যান্ড প্রটেকশনের আঞ্চলিক উপদেষ্টা লিসা গ্রেমিঙ্গার, আঞ্চলিক প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপক নাজিয়া হায়দার এবং সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
channeljaintanews24.com