স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে বৃহৎ পরিসরের বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন (VEON)। ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাউ’ শীর্ষক উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মার্কিন ডলারের বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর অংশ হিসেবে ভিওন নিজেই প্রধান বিনিয়োগকারী (অ্যাংকর ইনভেস্টর) হিসেবে ২৫০ মিলিয়ন (২৫ কোটি) মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভিওনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অগি কে. ফাবেলা। বৈঠকে দেশের ডিজিটাল ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ উপস্থিত ছিলেন। ভিওনের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মিশিয়েল সোয়েটিং, বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়োহান বুসে এবং চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান।
বৈঠকে ভিওন বাংলাদেশে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ফাইন্যান্স ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বৈশ্বিক ফিনটেক খাতে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে ডিজিটাল ব্যাংকিং, ক্ষুদ্রঋণ (মাইক্রোফাইন্যান্স) এবং ক্ষুদ্র বিমা (মাইক্রো-ইনস্যুরেন্স) সেবা পৌঁছে দিতে তারা আগ্রহী।
ভিওনের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়বে, ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বৈঠকে নাসডাক-তালিকাভুক্ত বৈশ্বিক ডিজিটাল অপারেটর ভিওন তাদের ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাউ’ উদ্যোগের রূপরেখা উপস্থাপন করে। বাংলাদেশ সরকার এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে এটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
উদ্যোগটির আওতায় বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এফডিআই আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভিওন নিজস্ব বিনিয়োগ হিসেবে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেবে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে নিজেদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ব্যবহারের কথাও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
প্রস্তাবিত বিনিয়োগের প্রধান খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে পরবর্তী প্রজন্মের ডিজিটাল অবকাঠামো, ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উন্নত সংযোগ প্রযুক্তি।
ভিওন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অগি কে. ফাবেলা বলেন, “ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের যাত্রায় আমরা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার। ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাউ’ উদ্যোগের মাধ্যমে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এফডিআই আকর্ষণের লক্ষ্যে আমরা প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত। নিজেদের বিনিয়োগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করব।”
তিনি আরও বলেন, সরকারের ডিজিটাল ও আর্থিক রূপান্তরের লক্ষ্য বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভিওন বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়োহান বুসে বলেন, “বাংলাদেশের নিজস্ব ডিজিটাল অপারেটর হিসেবে দেশের ডিজিটাল ও আর্থিক রূপান্তরের যাত্রায় সরকারের অংশীদার হতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ধারাবাহিক বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে কার্যকর ডিজিটাল ও আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে চাই।”
আগামী দিনে বাংলাদেশে ডিজিটাল কার্যক্রমের পরিসর আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে ভিওন ও বাংলালিংকের। এ লক্ষ্যে ডিজিটাল ব্যাংকিং, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, রাইড শেয়ারিং, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) এবং স্টারলিংকের ডাইরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে নতুন বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের সম্ভাবনা যাচাই করছে প্রতিষ্ঠানটি।