এক রাতেই নিঃস্ব এক পরিবার: মা ও তিন মেয়ের দাফন, বাকরুদ্ধ সিফাত
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তিন মেয়ের মরদেহ শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। রাত ১০টা ৫ মিনিটে হোমনা পৌরসভার লটিয়া ঈদগাহ মাঠে তাদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে মা ও তিন মেয়েকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মুফতি সামসুল হক আরিফী।
হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য দেখতে জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে হাজারো মানুষ ভিড় করেন।
জানাযায় উপস্থিত ছিলেন হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কাজী মো. ইব্রাহিমসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো পরিবার হারিয়ে এখন সম্পূর্ণ একা হয়ে গেছে মো. সিফাত এখন বাকরুদ্ধ। ঘটনার সময় বাসার বাইরে থাকায় সে প্রাণে বেঁচে যায়।
এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া সিফাত একাই মা ও তিন বোনের মরদেন নিয়ে হোমনায় পৌঁছেন। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজন ও এলাকাবাসী জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করেন। প্রিয়জনদের হারানোর শোকে সিফাত এখন বাকরুদ্ধ। তার আপন বলতে আর কেউ রইল না।
জানাযার নামাজে উপস্থিত হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে তারা বদ্ধপরিকর। এছাড়াও সিফাতের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে তারা সহযোগিতা করবেন।
উল্লেখ্য, ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকার একটি পাঁচ তলা ভবনের ভাড়া বাসায় ঢুকে অন্তর মজুমদার নামে এক যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহীনূর আক্তার (৩৮) ও তার তিন মেয়ের ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই শাহীনূর আক্তার, বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে সিফা আক্তার (১০) নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান মেঝো মেয়ে ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকরা আক্তার। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে হামলাকারী অন্তর মজুমদারও নিহত হয়।