সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত করতে আজ (বুধবার) বৈঠকে বসছে পে-স্কেল সংক্রান্ত সচিব কমিটি।
বেতন বৃদ্ধি, ভাতা পুনর্নির্ধারণ, বৈষম্য দূর করা এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি; এসব বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসছে পে-স্কেল-সংক্রান্ত সচিব কমিটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন একাধিক ধাপে হবে কি না, হলে কত ধাপে হবে—তা নিয়েও আজ আলোচনা হবে। আগে তিন ধাপে বাস্তবায়নের একটি ধারণা থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুই ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আগামী ১ জুলাই থেকেই বেসিক বেতনের পুরো বৃদ্ধি কার্যকর করার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
জানা গেছে, সচিব কমিটির আলোচনায় বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা পুনর্নির্ধারণ এবং জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশের কতটুকু বাস্তবায়ন করা হবে, সেটিও গুরুত্ব পাবে। একইসঙ্গে পে-স্কেল কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য কমানোর বিষয়টি এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নতুন কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার উচ্চ গ্রেডের তুলনায় বেশি হতে পারে। আলোচনায় থাকা একটি প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বেতন বৃদ্ধির বড় অংশ প্রথম ধাপেই কার্যকর করা হতে পারে। অন্যদিকে উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের হার তুলনামূলক কম রাখা হতে পারে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে। তবে বেসিকের ৫০ শতাংশ নাকি শতভাগ বৃদ্ধি পাবে সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জুলাই থেকে পে-স্কেল কার্যকর হলেও টাকা পেতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। সচিব কমিটির সভায় অনেক কিছুই চূড়ান্ত হবে বলেও আশা করা যাচ্ছে।
এর আগে ১৮ জুন অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করা হয়। সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত সচিব কমিটির সব সদস্যকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের সহায়তা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী অর্থবছর থেকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়তে পারে। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৯ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন যতটা বৃদ্ধি করা হবে, তার ৪০ শতাংশ আগামী অর্থবছরে কার্যকর করা হতে পারে। অন্যদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির ৬০ শতাংশ কার্যকর করার প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।