বিশ্বনাথ প্রতিনিধি
সিলেটের বিশ্বনাথে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। শনিবার (২০ জুন) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উত্তর দশপাইকা গ্রামের আজিম খান (২৩) লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আজিম খান অভিযোগ করেন, বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর নোয়াগাঁও পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা আজবর আলী (৪৬), তার সৌদি প্রবাসী ভাই আছকির আলী (৫৫), রাজনা বেগম (৩৫), আছিয়া বেগম (৪৫) ও ফাহাদ আলী (২৫) সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের আরটিজিএস এবং নগদে মোট ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন।
তার দাবি, প্রতিশ্রুত ড্রাইভিং ভিসার পরিবর্তে তিন মাস মেয়াদি অন্য একটি ভিসার পিডিএফ কপি দিয়ে মেডিকেল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও প্রশিক্ষণের নামে পুরো টাকা আদায় করা হয়। পরবর্তীতে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে তাকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা বলে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র, সৌদি ৫০০ রিয়াল এবং বাংলাদেশি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা রেখে দিয়ে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আজিম খান আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার আরও ভুক্তভোগীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে প্রায় ২০ জন ভুক্তভোগী একত্রিত হয়ে গত ৮ মার্চ দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খানের কাছে পাসপোর্ট ও টাকা ফেরতের দাবিতে বিচার প্রার্থনা করেন।
তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে ১৫ এপ্রিল, ৩ মে ও ৯ জুন তিন দফা নোটিশ দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা উপস্থিত হননি। পরে ভুক্তভোগীদের আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে তারা বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইনে মাননীয় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালত, সিলেটে বিশ্বনাথ সি.আর. মামলা নং-২৪৯/২০২৬ দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সাধারণ মানুষকে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করছে। তারা মানবপাচারকারী চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান বলেন, অভিযুক্তদের কোনো সাড়া না পাওয়ায় ভুক্তভোগীদের আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার জন্য প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।