Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
channeljaintanews24.com
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ | ১০:১০ অপরাহ্ন
channeljaintanews24@gmail.com

সত্য না অপপ্রচার? গোয়াইনঘাটে ওসিকে ঘিরে তুমুল আলোচনা

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
🕒 শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ | ১০:১০ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার।

সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলায় হাজীপুর-আহারকান্দি বালু মহালকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এসব আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান। তবে স্থানীয়দের একটি বড় অংশের দাবি, বালু মহালসংক্রান্ত প্রশাসনিক বিষয়কে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওসিকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে এবং তার দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।


স্থানীয় সচেতন নাগরিক, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বালু মহালের ইজারা প্রদান, সীমানা নির্ধারণ, দাগ-খতিয়ান চিহ্নিতকরণ, রাজস্ব আদায় ও তদারকির দায়িত্ব মূলত জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং ভূমি প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত। এসব কার্যক্রমে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা সরাসরি নিয়ন্ত্রণমূলক নয়; বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং প্রয়োজন হলে প্রশাসনকে সহায়তা করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব।


স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেখানে বালু মহালের প্রশাসনিক ও কারিগরি বিষয়গুলো অন্য দপ্তরের আওতাধীন, সেখানে সব অভিযোগ একতরফাভাবে গোয়াইনঘাট থানার ওসির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।



গোয়াইনঘাটে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ওসি মো. মনিরুজ্জামান সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মাদকবিরোধী অভিযান, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ, সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনগত সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত শোনার কারণে তিনি ইতোমধ্যে এলাকার অনেক মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।


স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের ভাষ্য, থানাকে জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। ফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমাতে তার ভূমিকা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকেই।


একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “যে কর্মকর্তা মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন, তাকে নিয়ে হঠাৎ করে নানা ধরনের অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। অভিযোগ থাকলে অবশ্যই তদন্ত হোক। কিন্তু যাচাই ছাড়া ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অপপ্রচার কোনোভাবেই কাম্য নয়।”


বালু মহাল নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব?


স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, গোয়াইনঘাটের বালু মহালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা রয়েছে। ইজারা, পরিবহন, শ্রমিক নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসায়িক স্বার্থকে কেন্দ্র করে নানা সময় বিরোধ দেখা দিয়েছে।


সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব বিরোধের জেরে অনেক সময় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা কিংবা জনপ্রতিনিধিদের নামও বিতর্কে জড়িয়ে ফেলা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতেও তেমন কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহল নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে এবং জনমতকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পুলিশ প্রশাসনকে বিতর্কের কেন্দ্রে আনার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


স্থানীয়দের মতে, প্রকৃতপক্ষে কোথাও অনিয়ম হয়ে থাকলে তার তদন্ত হওয়া উচিত এবং দায়ী ব্যক্তি যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে কোনো সুনির্দিষ্ট তদন্ত বা প্রমাণ ছাড়া একজন কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো ন্যায়সঙ্গত নয়।


‘আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চলছে’ — ওসি


এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন,


“সত্যতা যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন ও বিভিন্ন পত্রিকায় যেসব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বালু মহালের তদারকি, ইজারা ব্যবস্থাপনা কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিষয়গুলো উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত। আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”


তিনি আরও বলেন,


“আমি সবসময় আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে আসছি। গোয়াইনঘাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে কিংবা কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করি। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”



স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, বালু মহালসংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ অবশ্যই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। অভিযোগের সত্যতা থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হলে তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া প্রয়োজন।


তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাচাইবিহীন তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলে প্রকৃত ঘটনা আড়ালে থেকে যায় এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।



গোয়াইনঘাটের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, উপজেলার প্রাকৃতিক সম্পদ, নদী ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে এবং নিরপরাধ কাউকে হয়রানি বা সামাজিকভাবে হেয় করার প্রবণতা থেকে সবাই বিরত থাকবে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, “সত্য উদঘাটনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। আমরা চাই তদন্ত হোক, প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক। তবে অপপ্রচার কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে কাউকে বিতর্কিত করার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।”


এদিকে গোয়াইনঘাটবাসীর একটি অংশের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে ওসি মো. মনিরুজ্জামান যে মানবিক ও পেশাদার পুলিশিংয়ের পরিচয় দিয়েছেন, তা অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অপপ্রচার তার কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

ছবি
channeljaintanews24.com
logo
ভিজিট করুন
২০.০৬.২০২৬
© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
channeljaintanews24.com