Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সিলেট রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

মাসে মাসে প্রকাশ হবে আয়-ব্যয়ের হিসাব, আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়ন হচ্ছে শাহজালাল (রহ.) মাজার

১৮ জুন ২০২৬ • ০১:৩৬ অপরাহ্ন

সিলেট: হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারকে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে মাজারে দান করা অর্থের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতি মাসে আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের করণীয় নির্ধারণ বিষয়ক সভায় এসব কথা বলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।


সভায় বক্তারা জানান, মাজারে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা নেই। হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর ব্যবহৃত জিনিসপত্র সংরক্ষণের জন্য কোনো মিউজিয়ামও নেই। এছাড়া মাজার এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা রোধে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে।


জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, পরিচ্ছন্নতার অভাবে দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থী ও ভক্তরা ভোগান্তিতে পড়েন। তাই মাজার, মাদ্রাসা ও মসজিদ—এই তিন স্থাপনার সমন্বিত উন্নয়ন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


তিনি জানান, মহাপরিকল্পনার আওতায় নান্দনিক মসজিদ নির্মাণ, নারীদের নামাজের পৃথক স্থান, লাইব্রেরি স্থাপন এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং টয়লেট সমস্যার সমাধান করা হবে।


সম্প্রতি মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, দান বা মানতের টাকা সরকারের নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে জনগণের দানকৃত অর্থের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ ও প্রকাশ নিশ্চিত করতে হবে।


তিনি বলেন, বর্তমানে মাজারে কত টাকা সংগ্রহ হয়, কে সংগ্রহ করে কিংবা কীভাবে অর্থ ব্যবস্থাপনা হয় তার সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই। এখন থেকে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সব অর্থের রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে।


জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মাজার কমিটি ও ওয়াকফ প্রশাসন যৌথভাবে হিসাব সংরক্ষণ করবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ১৫ দিন পর দানবাক্স খোলা হবে। এরপর প্রতি মাসে দানবাক্স খুলে আয় গণনা করা হবে এবং সেই হিসাব গণমাধ্যমসহ সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।


তিনি জানান, এখন থেকে দানবাক্স ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করা যাবে না এবং হাতে হাতে টাকা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।


মাজারের খাদেম পরিবারের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার কোনো অর্থ নিতে চায় না; সরকার উন্নয়ন চায় এবং সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক সিলেট গড়ে তুলতে চায়।


সভায় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণে সবাই একমত। সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম প্রকল্প হিসেবে মাজারকেন্দ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।


সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মাজারের নিরাপত্তা জোরদার, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, টয়লেট নির্মাণ, দানের অর্থের রেকর্ড সংরক্ষণ, লকার ব্যবস্থা চালু এবং মাজার-সংলগ্ন ভূমির ডিজিটাল জরিপ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


সভায় সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com